অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা আটকালো প্রশাসনিক ফাঁদে! একাধিক জেলায় রাস্তা অবরোধ করে চরম বিক্ষোভ সুবিধাভাবীদের

রাজ্য সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষামূলক উদ্যোগ ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’-র (Annapurna Scheme) মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান থমকে গেল প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত সময়ে টাকা না পৌঁছানোয় রাজ্যের একাধিক জেলায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাওনা টাকা দ্রুত মেটানোর দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সুবিধাভোগীরা (Beneficiaries)।
কী কারণে এই বিলম্ব এবং কেন এই ক্ষোভ?
স্থানীয় সূত্রে ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আওতায় থাকা সুবিধাপ্রাপ্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠায় সরকার (Direct Benefit Transfer)। কিন্তু এ মাসে কারিগরি সমস্যা এবং প্রশাসনিক তথ্য যাচাইকরণের জটিলতার কারণে অনুদান প্রদানে দেরি ঘটে।
এর পরদিনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে:
-
রাস্তা অবরোধ ও স্লোগান: হুগলি, বর্ধমান ও দুই মেদিনীপুরের একাধিক ব্লক অফিসের সামনে সকাল থেকেই উপভোক্তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। কোথাও কোথাও রাস্তা অবরোধের ফলে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
-
বিডিও অফিসে স্মারকলিপি: সুবিধাভাবীদের প্রতিনিধি দল ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (BDO) কাছে গিয়ে অবিলম্বে বকেয়া টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করার দাবিতে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি জমা দেয়।
-
দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ: প্রান্তিক পরিবারগুলির ক্ষেত্রে মাসিক এই ভাতার ওপর দৈনন্দিন অনেক খরচ নির্ভর করে। ফলে টাকা আটকে থাকায় তীব্র আর্থিক সমস্যায় পড়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
প্রশাসনের বক্তব্য ও সমাধানের আশ্বাস
ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা নড়েচড়ে বসেছেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, পোর্টালের কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি (System/Administrative Snags) এবং আধার সংযুক্তিকরণের যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার কারণেই টাকা পাঠাতে এই সাময়িক বিলম্ব ঘটেছে।
প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “উপভোক্তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। সমস্ত প্রযুক্তিগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে এবং আগামী কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।” প্রশাসনের আশ্বাসের পর আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত হলেও পুরো প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজর রাখছেন এলাকার বাসিন্দারা।