শত শত বছরের প্রথায় বদল নয়! আমিষ ভোগের ঐতিহ্যে সিলমোহর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলোর

দুর্গাপূজার ভোগ এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে অত্যন্ত স্পষ্ট ও শক্ত অবস্থান নিল কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন বনেদি বাড়িগুলি। বাইরের কোনো ধর্মীয় নেতা বা সংগঠনের ‘নিরামিষ আহারের’ ফতোয়া সরাসরি খারিজ করে দিয়ে ঐতিহ্যবাহী পরিবারগুলি জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে চলে আসা আমিষ ভোগের নিয়ম ও ঐতিহ্যেই তারা অবিচল থাকবে।

কী বলছে ঐতিহ্যবাহী পরিবারগুলি?

সম্প্রতি বঙ্গীয় উৎসবের সময় সম্পূর্ণ নিরামিষ আহারের দাবি তুলে বিতর্ক তৈরি করেছিল কিছু বহিরাগত ধর্মীয় সংগঠন। এর জবাবে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বনেদি বাড়ির প্রতিনিধিরা যৌথভাবে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন:

  • সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার: ১৬১০ সালে শুরু হওয়া কলকাতার প্রাচীনতম এই পুজো পরিবারের ৩৫তম বংশধর শ্রীমন্ত রায়চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানান, “আমাদের পুজো ৪১৭ বছরের পুরনো। বাইরের কোনো ব্যক্তি এসে আমাদের কী খেতে হবে বা কী পরতে হবে তা বলে দিতে পারে না। নিজের প্রথা বজায় রাখা আমাদের মৌলিক অধিকার।”

  • শোভাবাজার রাজবাড়ি: ১৭৫৭ সালে শুরু হওয়া শোভাবাজার রাজবাড়ির পক্ষ থেকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে। পরিবারের অষ্টম বংশধর প্রবীর কৃষ্ণ দেব বলেন, “মা দুর্গা আমাদের ঘরের মেয়ে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে প্রথা আমাদের পূর্বপুরুষরা চালু রেখে গেছেন, বাইরের কারও কথায় তা বদলানোর প্রশ্নই ওঠে না।”

শাক্ত মতে আমিষ ভোগের গুরুত্ব:

বাংলার বহু বনেদি বাড়িতেই নবমী বা সন্ধিপূজার পর নিরাময়ী উপায়ে (পিঁয়াজ-রশুন ছাড়া) প্রস্তুত মাংস বা মাছ মহাপ্রসাদ হিসেবে দেবীকে নিবেদন করা হয়। শাক্ত ঐতিহ্য অনুযায়ী, নিবেদিত এই পদ সাধারণ খাবার নয়, বরং অত্যন্ত পবিত্র ‘মহাপ্রসাদ’ হিসেবেই গণ্য হয়।

ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতি গবেষকদের মতে, কলকাতার প্রায় দু’শোর্ধ্ব প্রাচীন বনেদি বাড়ির নিজস্ব নিয়ম ও ধর্মাচরণ রয়েছে। শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্য ও উৎসবের ভাবাবেগে আঘাত হানা কোনো নির্দেশকেই যে তারা মানবে না, তা পরিষ্কার করে দিল তিলোত্তমার সাবেক পরিবারগুলি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *