রাজ্যের জেলায় জেলায় এবার আরএসএস-এর নতুন বিদ্যাপীঠ! তোপ বিরোধীদের, তোলপাড় শিক্ষা রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলা ও গ্রামীণ অঞ্চলে আরএসএস (RSS)-ঘনিষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয়ের সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। সংগঠনটির শিক্ষা শাখা ‘বিদ্যা ভারতী’ (বা বিবেকানন্দ বিদ্যা বিকাশ পরিষদ)-র পরিচালিত বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো বিস্তারে নেতৃত্বের প্রকাশ্য সমর্থন সামনে আসতেই কড়া ভাষায় সরব হয়েছে সমস্ত বিরোধী দলগুলি।
কী এই নতুন পরিকল্পনা?
সংগঠনের অন্দরমহল সূত্রে খবর, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে পৌঁছাতে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন এবং বিদ্যমান বিদ্যাপীঠগুলির পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। গ্রামীণ এবং প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুদের কাছে শিক্ষা ও জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়াই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করা হয়েছে। রাজ্য স্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিরোধী শিবিরের তোপ ও বিতর্ক
আরএসএস-ঘনিষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলির এই দ্রুত প্রসারের উদ্যোগে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলগুলি।
-
শিক্ষার মূল ভাবধারায় আঘাতের আশঙ্কা: বিরোধী নেতাদের মতে, স্কুল স্তরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সামাজিক মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর ফলে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
-
পাঠ্যক্রম ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন: প্রাতিষ্ঠানিক সিলেবাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত পাঠ্য উপাদান এবং চিন্তাধারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও সরব হয়েছেন শিক্ষাবিদ ও বিরোধী বক্তারা।
-
প্রশাসনিক অনুমোদনের সমীকরণ: এই বিদ্যালয়গুলির অনুমোদন ও জমি বা ভবন বরাদ্দের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বহু রাজনৈতিক প্রতিনিধি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাজ্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন বনাম পাঠ্যক্রমে সামাজিক-রাজনৈতিক মতাদর্শের স্থান—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও বড় রূপ নিতে পারে।