বিশ্ববিদ্যালয় নাকি ধর্মসভা? যাদবপুরে আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান ঘিরে ধুন্ধুমার রাজনৈতিক লড়াই!

ফের সংবাদের শিরোনামে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (JU)। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বিপরীতমুখী অবস্থান ঘিরে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে। মুক্তচিন্তার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রবেশাধিকার নিয়ে শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও রাজনীতিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর তরজা।
বিতর্কের মূল সূত্রপাত
সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে বেদ, গীতা পাঠ কিংবা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক শিবিরের মতো কিছু প্রস্তাবিত ও আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একপক্ষের দাবি, ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার অনুযায়ী ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট সীমানায় শান্তিপূর্ণভাবে যেকোনো সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার সবার রয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলির বক্তব্য, যাদবপুর একটি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রাঙ্গণকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় ভাবধারা বা রাজনীতি চর্চার কেন্দ্র বানিয়ে ক্যাম্পাসের একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত করা অনুচিত।
রাজনৈতিক তরজা ও শিক্ষাবিদদের মতামত
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজ্য স্তরের রাজনৈতিক দড়াকষাকষি:
-
বিরোধীদের দাবি: একপক্ষের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও ধর্মনিরপেক্ষ রূপ ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উন্মাদনা তৈরি করা হচ্ছে।
-
সমর্থকদের যুক্তি: অন্যপক্ষের পাল্টা দাবি, বহু বছর ধরে ক্যাম্পাসে ইফতার কিংবা অন্যান্য সামাজিক আয়োজন হলে যদি বিতর্ক না থাকে, তবে সনাতন ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক চর্চা নিয়ে কেন আপত্তি তোলা হবে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষাবিদ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ঘনঘন এসব ঘটনা ও ছাত্রগোষ্ঠীর মুখোমুখি অবস্থানের ফলে পড়াশোনা ও গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা, একাডেমিক শৃঙ্খলা ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে তারা সব পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালাচ্ছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।