উৎসবের মেজাজে রাজনীতির রঙ! দুর্গাপুজোর মণ্ডপে সিপিআইএমের বইয়ের স্টল ঘিরে শাসক-বিরোধী চরম সংঘাত

শারদোৎসবের আনন্দ ও আলোকের মাঝেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রতি বছরের মতো এবারও রাজ্যের বিভিন্ন দুর্গাপুজো মণ্ডপের আশেপাশে সিপিআইএম-এর (CPI-M) পক্ষ থেকে মার্কসবাদী ও প্রগতিশীল সাহিত্যের বইয়ের স্টল দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। উৎসব প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক দলের এমন উপস্থিতি ও প্রচার চালানো কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।
বামেদের যুক্তি ও ঐতিহ্য
বামেদের দাবি, দুর্গাপুজো বা অন্যান্য উৎসবে বইয়ের স্টল দেওয়া নতুন কিছু নয়, এটি বহু দশকের একটি ঐতিহ্য। উৎসবের দিনগুলিতে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা ও সাহিত্য পৌঁছে দেওয়ার এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। বাম নেতৃত্বের মতে, উৎসব কেবল বিনোদনের জায়গা নয়, বরং চিন্তা ও চেতনার প্রসারেরও একটি বড় মঞ্চ।
শাসকদলের কটাক্ষ ও বিতর্ক
অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে বামেদের এই উদ্যোগকে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, যাঁরা ধর্ম বা উৎসব পালনকে কেন্দ্র করে নানা সময়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁরাই আবার নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে পুজোর ভিড়কে ব্যবহার করতে চান। শাসক শিবিরের নেতাদের একাংশের বক্তব্য, উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা আনন্দ ও উৎসবের আবহে থাকেন, সেখানে রাজনৈতিক প্রচারের স্টল বসানো উৎসবের আবহকে ক্ষুণ্ণ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব ও জনসংযোগ বজায় রাখতে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে এই বইয়ের স্টলগুলি বিরোধী বাম শিবিরের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। তবে প্রতিবারের মতো এবারও উৎসবের আঙিনায় এই বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধীদের এই তরজা শারদোৎসবের আবহে এক নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।