বিধানসভায় পাশ হতেই মারাত্মক বিরোধিতা! মমতা সরকারের নতুন শিক্ষাবিধিতে কেন ফুঁসছেন রাজ্যের অধ্যাপকরা?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাস হওয়া বিতর্কিত ‘ইন্টার-ইউনিভার্সিটি ট্রান্সফার বিল’ (Inter-University Transfer Bill)-কে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত তরজা। এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও শিক্ষাসংক্রান্ত কর্মীদের বদলির জন্য আনা এই নতুন আইনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছেন রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের একাংশ।

কেন এই জোরালো প্রতিবাদ?

রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর এই বিলটিকে প্রশাসনিক সুপ্রশাসন ও অধ্যাপকদের সুবিধাজনক বদলির সুযোগ হিসেবে তুলে ধরলেও, শিক্ষা মহলের একাংশ এটি মানতে নারাজ। আন্দোলনকারী অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদদের মূল অভিযোগ:

  • স্বায়ত্তশাসনে চরম আঘাত: উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটি নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন (Autonomy) থাকে। এই বিলের ফলে সেই স্বায়ত্তশাসন সম্পূর্ণ নষ্ট হবে এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই রাজ্য সরকারের হাতে চলে যাবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

  • রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা: অধ্যাপকদের একাংশের দাবি, এই ট্রান্সফার বিলের মাধ্যমে সরকার চাইলে ইচ্ছামতো যেকোনো অধ্যাপককে দূরবর্তী স্থানে বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করতে পারবে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরণের হাতিয়ার হতে পারে।

  • শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়া: হঠাৎ করে অধ্যাপকদের স্থানান্তরের ফলে গবেষণার মান ও ক্লাসের পঠনপাঠনের ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আগামী দিনে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ইতোমধ্যেই একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন (JUTA, WBCUTA ইত্যাদি) এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, অবিলম্বে এই বিলে পরিবর্তন না আনলে বা এটি পুনর্বিবেচনা না করা হলে রাজ্যব্যাপী আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সার্বিক ও সুবিধাজনক করতেই এই বিল আনা হয়েছে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তবে বিল পাস হওয়া সত্ত্বেও অধ্যাপক মহলের এই অসন্তোষ মমতা সরকারের জন্য নতুন অস্বস্তি তৈরি করল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *