বন্ধক ছাড়াই মিলবে ২০ লক্ষ টাকা! ব্যবসা শুরুর স্বপ্ন থাকলে আজই জেনে নিন প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার এই দুর্দান্ত সুযোগ

নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় পর্যাপ্ত পুঁজি। অনেক তরুণ উদ্যোক্তার মাথাতেই দারুণ সব আইডিয়া থাকে, কিন্তু তহবিলের অভাবে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবে রূপ নেয় না। এর পাশাপাশি, ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলেই জামানত বা বন্ধকি সম্পত্তি নিয়ে শুরু হয় বাড়তি দুশ্চিন্তা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেকের কাছেই বন্ধক রাখার মতো পর্যাপ্ত সম্পত্তি থাকে না, যার ফলে তারা সহজে ঋণ পান না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে এসেছে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা, যার মাধ্যমে মিলছে সম্পূর্ণ জামানত-মুক্ত ঋণ।
কী এই মুদ্রা যোজনা এবং কত টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়? প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা এখন ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই প্রকল্পের পরিধি মূলত চারটি ভাগে বিভক্ত, যেখানে ৫০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। সম্প্রতি এর আওতায় যুক্ত হয়েছে বিশেষ ‘তরুণ প্লাস’ বিভাগ। মূলত যেসব উদ্যোক্তা এই প্রকল্পের আগের ঋণ সফলভাবে এবং নিয়মমাফিক পরিশোধ করেছেন, তাদের জন্যই এই বিশেষ ক্যাটাগরিটি তৈরি করা হয়েছে।
কারা এই ঋণের জন্য যোগ্য? প্রধানত অ-কর্পোরেট, অ-কৃষি ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়। উৎপাদন ক্ষেত্র, বাণিজ্য, বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা এবং কৃষি-সংযুক্ত আয়-উৎপাদনকারী কাজকর্মে যুক্ত ব্যক্তিরা এই ঋণের আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে মুদি বা খুচরো দোকান, ছোট আকারের উৎপাদন ইউনিট, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, মেরামতের দোকান এবং অন্যান্য লাভজনক ছোট ব্যবসা। কোনো ব্যক্তি একা বা একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামেও এই ঋণের জন্য আবেদন করা সম্ভব। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আবেদনকারীর ব্যবসার ধরন, ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা এবং ক্রেডিট প্রোফাইলের ওপর।
কীভাবে আবেদন করবেন এবং কী কী নথির প্রয়োজন? রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক, স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংক, এনবিএফসি এবং মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঋণের জন্য আবেদন করা যায়। অফলাইনের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমেও আবেদন করার সুবিধা রয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন হবে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র:
-
কেওয়াইসি নথি ও প্যান কার্ড
-
পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং ঠিকানার প্রমাণপত্র
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট
-
ব্যবসার প্রমাণপত্র (যেমন- উদ্যম রেজিস্ট্রেশন, জিএসটি নম্বর বা দোকান ও প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রেশনের কাগজ)
-
ব্যবসার প্রকল্প প্রতিবেদন বা সঠিক বিজনেস প্ল্যান
-
যন্ত্রপাতি বা স্টক কেনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোটেশন বা এস্টিমেট
-
পূর্বে কোনো ঋণ নেওয়া থাকলে তার সফল পরিশোধের রেকর্ড
পরিশোধের সময়কাল ও সুদের হার কেমন? মুদ্রা লোনের পরিশোধের সময়সীমা এবং সুদের হার কোনো নির্দিষ্ট বা অভিন্ন নিয়মে বাঁধা নয়। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা ঋণদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ঋণগ্রহীতার প্রোফাইলের ওপর। তাই আবেদন করার আগে ঋণের কিস্তি বা ইএমআই এবং সুদের হিসাব নিয়ে ব্যাংকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।