কাজের দিন শুধু সই, বাকি সময় নেতার বাড়ি বা পাড়ার কাজ! পুরসভার হাজারেরও বেশি ভুয়া কর্মী নিয়ে চাঞ্চল্য

নিয়মের তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে চলা বেআইনি ও দেদার অস্থায়ী নিয়োগের ঘটনায় বড়সড় বিপাকে মালদার ইংরেজবাজার পুরসভা। খাতায়-কলমে সরকারি অনুমোদন মাত্র ৫১৭ জনের থাকলেও, বর্তমানে সেখানে কাজ করছেন ১৬০৪ জন অস্থায়ী কর্মী। এর মধ্যে একাংশ কর্মী আবার কোনোদিনই পুরসভায় আসেন না বলে অভিযোগ উঠেছে, যাঁদের সিংহভাগই সাফাই বিভাগের সঙ্গে যুক্ত।

পুরসভার অন্দরের তথ্য বলছে, বহু কর্মী শুধুমাত্র বেতনের দিন সই করতে আসেন কিংবা রাজনৈতিক দলের কাজকর্ম, কাউন্সিলারদের ঘরের নানা কাজ এবং তাঁদের ছেলেমেয়েদের স্কুল আনা-নেওয়ার দায়িত্ব সামলান। বাম আমল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের ঘনিষ্ঠদের পুরসভায় এভাবে ঢুকিয়েছে বলে অভিযোগ। অথচ পাম্প হাউস বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলিতে যেখানে স্থায়ী কর্মীর মারাত্মক আকাল রয়েছে, সেখানে সাফাই বিভাগেই এক হাজারের বেশি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই বিশাল অনিয়মের হিসাব চেয়ে কিছুদিন আগেই পুর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু সেই তথ্য জমা দেওয়ার ঠিক আগেই পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। ফলে এই নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। সোমবারই পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে এই বিষয়ে কড়া জবাবদিহি চাওয়া হতে পারে বলে খবর।

পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন সুমালা আগরওয়ালা অবশ্য সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন, নিজেদের তহবিল থেকেই এই কর্মীদের বেতন দেওয়া হয় এবং কাজের স্বার্থে এই নিয়োগ করা হয়েছে। তবে বাম বা তৃণমূল— কোনো আমলেই নিয়ম মানা হয়নি বলে স্বীকার করে বিরোধী দলনেতা অম্লান ভাদুড়ি জানিয়েছেন, সাধারণ গরিব কর্মীদের চাকরি বাঁচানোই তাঁদের লক্ষ্য হলেও, এই বেআইনি নিয়োগের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *