পর্দায় যিনি ‘জুবিন গর্গ’, ঘরের কোণে তিনি ঠিক কেমন ছিলেন? একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন স্ত্রী!

জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি ও গান আজও অগণিত মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে বেঁচে রয়েছে। পর্দার আড়ালের সেই চিরচেনা মানুষটিকে এবার এক অন্য আলোয় তুলে ধরলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ, স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া গর্গ। সম্প্রতি কলকাতার একটি ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জুবিনের ব্যক্তিজীবন, বাঙালিয়ানা এবং তাঁদের দীর্ঘ তিন দশকের সম্পর্কের অজানা নানা দিক নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।

‘আমি তো অর্ধেক বাঙালি!’
বাংলা গান এবং বাংলার সংস্কৃতির প্রতি জুবিনের এক গভীর টান ছিল, যা তাঁকে ওপার বাংলা তথা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছেও অত্যন্ত আপন করে তুলেছিল। করিমগঞ্জ এবং শিলচরে কাটার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগ ছিল। গরিমা জানিয়েছেন, জুবিন প্রায়শই বলতেন যে তিনি ‘অর্ধেক বাঙালি’। তাই কলকাতাতে এলে গরিমার নিজেরও কখনও পরদেশি বলে মনে হয় না, বরং তিনি শহরের সবার পরিবারের একজন হয়ে ওঠেন।

‘গোল্ডি’ ও ভালোবাসার তিন দশক
বহু মানুষ যাঁকে ‘জুবিন গর্গ’ হিসেবে চেনেন, গরিমার কাছে তিনি ছিলেন একান্তই ‘গোল্ডি’। ১৯৯৫ সালে, আজ থেকে ৩১ বছর আগে, ২৩ বছরের এক তরুণ জুবিনের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল তাঁর। ‘অনামিকা’ ও ‘মায়া’ অ্যালবামের টানে লেখা একটি চিঠির সূত্র ধরেই যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, তা সময়ের সঙ্গে পরিণত রূপ নেয়। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও সেই সম্পর্কের ভিত কতখানি জোরালো ছিল, তা আজ স্বামীর মৃত্যুর পর বারেবারে অনুভব করেন গরিমা।

কঠিন সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
হঠাৎ করে জুবিনের চলে যাওয়ার পর মানসিক ও আবেগগতভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন গরিমা। প্রথম কয়েক মাস কীভাবে জীবন চলবে তা তিনি ভেবে পেতেন না। তবে পরবর্তীতে নিজের মনেই প্রশ্ন তুলেছিলেন— গোল্ডি কি তাঁকে এভাবে ভেঙে পড়তে দেখতে চাইতেন? স্বামীর সেই অদম্য সাহস ও অনুপ্রেরণা থেকেই তিনি ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে ‘লাভ ইউ জুবিনদা’ ছবির মাধ্যমে জুবিনের স্বপ্ন ও ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জুবিনের প্রয়াণবার্ষিকীকে সামনে রেখে তিন দিন ধরে সর্বধর্ম প্রার্থনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভাবনার আয়োজনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে পরিবার।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *