‘মোদিজি গ্যারেন্টার, আর আমি ইম্পিমেন্টার!’ রাইজিং ভারতের মঞ্চ থেকে আর কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

‘রাইজিং ভারত সামিট’-এর (Rising Bharat Summit) মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিশেষ সম্মেলনে দিলীপ ঘোষ, স্বপন দাশগুপ্ত, তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, শঙ্কর ঘোষ এবং কল্যাণ চক্রবর্তীর মতো বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে দেশের উন্নয়ন ও রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা দিলেন তিনি।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের এবং কেন্দ্রের সরকারের সম্পর্কের রসায়ন স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময় মানুষের কাছে উন্নয়নের ‘গ্যারান্টার’ হিসেবে থেকেছেন, আর তিনি এবং তাঁর মন্ত্রী সভার সতীর্থরা হলেন সেই গ্যারান্টি বাস্তবায়নের কারিগর বা ‘ইম্প্লিমেন্টার’। বহু বছর পর কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার আসার ফলে বাংলার সামনে উন্নয়নের এক বিরাট সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদি অতীতে বাংলায় যে সমস্ত প্রতিশ্রুতির কথা দিয়েছিলেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খুলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধর্মীয় গুরুরা তাঁদের বক্তব্য রাখতেই পারেন, মানা বা না মানা মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। নিজের খাদ্যাভ্যাস ও সনাতনী প্রথার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘শাক্ত প্রথা অনুযায়ী কৌশিকী অমাবস্যায় মাকে পুজো দিয়ে মাছের মাথা দিয়ে পোলাও ভোগ খেয়েছি, আবার রাধাষ্টমীতে বাগবাজারের গৌড়ীয় মঠে গিয়ে সাত্ত্বিক ভোগও গ্রহণ করব।’’
পাশাপাশি, পূর্বের তৃণমূল সরকারের আমলের দুর্গাপুজোর কার্নিভাল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করতে দেখা যায় তাঁকে। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, অতীতে রেড রোডের কার্নিভালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিংহাসনে বসে থাকতেন আর প্রতিমা সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হতো যেন স্বয়ং মা দুর্গাই সিংহাসনপ্রার্থী সেই শাসককে স্যালুট করছেন। উৎসবের মরশুমে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।