ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকেই মোদির মাস্টারস্ট্রোক! ইথিওপিয়া ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে কোন কোন ক্ষেত্রে হাত মেলাল ভারত?

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে চলমান ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের (18th BRICS Summit) প্রথম দিনে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। শনিবার সম্মেলনের ফাঁকেই ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আবি আহমেদ আলী এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে পৃথকভাবে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব মজবুত করা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই ছিল এই বৈঠকগুলির মূল লক্ষ্য।

ইথিওপিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক:
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি—এই ক্ষেত্রগুলি আলোচনায় প্রধান জায়গা পায়। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, যৌথ কর্মী প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটাসহ ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও প্রসারিত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইথিওপিয়া। এছাড়া, বিশেষ করে খনি শিল্পে ভারতীয় কোম্পানিগুলির বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে আদ্দিস আবাবা। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদির আদ্দিস আবাবা সফরের ঠিক পরেই এই উচ্চপর্যায় বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক:
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সেমিকন্ডাক্টর, পরিকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি, শক্তি, ফিনটেক, শিক্ষা এবং পর্যটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রটিতে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিনিময় হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এ বছরের ব্রিকস সম্মেলনে অংশীদার দেশ হিসেবে যোগ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির মালয়েশিয়া সফরের ধারাবাহিকতাতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ২০২৪ সালের আগস্টে উন্নীত হওয়া ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী করেছে। সম্মেলন শেষে কেরল সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর, যেখানে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।

বিশ্বমঞ্চে ব্রিকস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *