আমিশার বাড়িতে লক্ষ লক্ষ টাকার হিরে চুরি! দেড় বছর ধরে কাজ করা বিশ্বস্ত পরিচারিকার কাণ্ডে মাথায় হাত অভিনেত্রীর

বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের বাড়িতে চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুম্বইয়ে। অভিনেত্রীর মা আশা প্যাটেলের বাড়ি থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি হিরে বসানো সোনার বালা চুরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ৪০ বছর বয়সি এক গৃহকর্মীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে মুম্বই পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল আমিশার বাড়িতে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুম্বইয়ের চার্চগেটে অবস্থিত আমিশার বাবা-মায়ের বাসভবনেই এই চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মহিলার নাম সীমা বিনোদ ঘাটে। তিনি পালঘর বা ভিরার এলাকার বাসিন্দা এবং প্রায় দেড় বছর ধরে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গেই আমিশার মায়ের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে আসছিলেন।
পুলিশের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই আচমকা বাড়ি থেকে বহুমূল্য হিরে বসানো ওই সোনার বালাটি উধাও হয়ে যায়। বহুমূল্য গয়নাটি ঘরে কোথাও খুঁজে না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সন্দেহ গিয়ে পড়ে বাড়ির ওই পরিচারিকার ওপর। অভিযোগ, আমিশার মা গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে অভিযুক্তকে বারংবার গয়নাটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং চুরির কথা স্বীকার করে নেওয়ার সুযোগও দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত গয়না ফেরত না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশের জালে অভিযুক্ত গৃহকর্মী
অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে মেরিন ড্রাইভ থানার পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও, পরবর্তীতে ক্রাইম ডিটেকশন টিম তদন্তে নেমে ভিরার এলাকা থেকে অভিযুক্ত গৃহকর্মীকে খুঁজে বের করে। তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পুলিশ এখনও পর্যন্ত চুরি যাওয়া সেই বহুমূল্য হিরে বাঁধানো গয়নাটি উদ্ধার করতে পারেনি। বর্তমানে গয়না উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তের অতীতে কোনও অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না, কিংবা এই চুরির নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখা এবং পরবর্তীতে ‘গদর’ ও ‘ভুলভুলাইয়া’-র মতো সুপারহিট ছবির অভিনেত্রী আমিশার পরিবারে এমন চুরির ঘটনায় তীব্র আলোড়ন পড়েছে।