পাকিস্তানের মাটিতে ফের চরম অমানবিকতা! দুই হিন্দু বোনকে জোর করে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

পাক মাটিতে আবারও অব্যাহত সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর চরম নিপীড়ন ও অত্যাচার। পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে এবার জোর করে দুই হিন্দু বোনকে অপহরণ করে ধর্মান্তরিত করার পর দুই মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। খোদ সে দেশের সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী ভিঙ্গাস এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জোর করে সংখ্যালঘু মেয়েদের ধর্মান্তরকরণ নিয়ে বারবার সরব হলেও পাকিস্তানে এই প্রবণতা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

আদালতের বাইরে দুই বোনের কান্নার রোল
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরঅস্ত, উলটে সিন্ধ প্রদেশের তান্ডো আল্লাহিরে দুই নাবালিকা হিন্দু বোনকে সরকারি হোমে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সেদেশের আদালত। বারবার বাড়ি ফেরার আর্জি জানালেও আদালত তাদের পরিবারের কাছে যেতে দেয়নি। গত দশদিনের মধ্যে কেবল সিন্ধ প্রদেশ থেকেই ছয়জন হিন্দু মেয়েকে অপহরণ করে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।

হোমে পাঠানোর নির্দেশ শোনার পর আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন অত্যাচারিত ওই দুই বোন। সঙ্গে অসহায় বাবা-মা উপস্থিত থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনের কর্মীরা জানিয়েছেন, করাচির ইব্রাহিম কলোনির কোলহি সম্প্রদায়ের সীতা ও রুপি নামের ওই দুই নাবালিকা বোনকে প্রথমে অপহরণ করে দুষ্কৃতীরা। এরপর জোর করে তাদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করে আমজাদ সোলাঙ্গি ও মনসুর সোলাঙ্গি নামে দুই যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

আমেরিকার সিন্ধি মানবাধিকার সংগঠন ‘সিন্ধ রেনেসাঁ’-র রিপোর্টে এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মামলা দায়ের হওয়ার পর আদালতে দুই বোন কান্নাকাটি করলেও বিচারক তাদের বাড়ি না পাঠিয়ে সরকারি হোমে পাঠিয়ে দেন। পুরো ঘটনার ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ভিঙ্গাস। জানা গিয়েছে, এই ঘটনার ঠিক একদিন পরেই তান্ডো আল্লাহির থেকে পানসি কোলহি নামের আরও এক হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করা হয়েছে।

অ্যামনেস্টির রিপোর্টেও চাঞ্চল্যকর তথ্য
পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হিন্দুর বসবাস। সেখানকার শয়ে শয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক হিন্দু পরিবারের মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে মুসলিম যুবকদের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা এখন দৈনন্দিন চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকী মন্দির ভাঙচুর, দোকানপাট লুট এবং কথায় কথায় ধর্মীয় অবমাননার আইনের অপব্যবহার করে হিন্দুদের উপর লাগাতার অত্যাচার চালানো হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে পাক সমাজকর্মী সোরাথ সিন্ধু নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রশ্ন তুলেছেন, ”হিন্দু সিন্ধিরা তাঁদের মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যেতে চান না বলেই কি এমন সরকারি মদতে এসব চলছে? আমাদের মেয়েদের বাঁচান!”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *