জি-সেভেনকে সোজা চ্যালেঞ্জ পুতিনের! ব্রিক্সের মঞ্চ থেকে আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ে কী এমন বললেন রুশ প্রেসিডেন্ট?

দিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ আয়োজিত ব্রিক্স বিজনেস ফোরামের মঞ্চ থেকে বিশ্ব অর্থনীতি এবং পশ্চিমা দেশগুলির ক্ষমতার অহংকার নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জি-সেভেন (G7) জোটের নাম না করে তাদের কড়া ভাষায় উপহাস করেন এবং বিশ্ব বাণিজ্যে ব্রিক্স দেশগুলির ক্রমবর্ধমান শক্তির জোরালো দাবি পেশ করেন।

জি-সেভেন নিয়ে পুতিনের কটাক্ষ: নেতাদের এই বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, “আমি জানি না কেন তারা নিজেদের জি-সেভেন বলে পরিচয় দেয়, অথচ আমরা বৈশ্বিক বাজারের ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছি এবং তারা আমাদের থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।” তিনি জানান যে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ এবং বড় বড় বাজারগুলি এখন ব্রিক্স দেশগুলির সঙ্গেই রয়েছে। বিশ্বের এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির নতুন নতুন কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে এবং মানবজাতির কল্যাণের জন্যই এই ক্ষমতার পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও পশ্চিমা অর্থনীতি নিয়ে তোপ: আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পুতিন বলেন, বিভিন্ন দেশের পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়া, সমুদ্রপথে জাহাজে হামলা চালানো এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু যে দেশগুলি এই ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ চালাচ্ছে, তারা নিজেরাই আজ শিল্পক্ষেত্রে বড় ধরনের পতনের মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের অর্থনীতিতে ৮ শতাংশ পর্যন্ত ধস নেমেছে এবং শিল্প উৎপাদন কমতে থাকায় তারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে রাশিয়া: রাশিয়ার অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে পুতিন জানান যে, পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে রাশিয়ার কোম্পানি আজ বিশ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ জায়গায় রয়েছে। পুরোনো শক্তিগুলি নিজেদের হারিয়ে যাওয়া আধিপত্য ফিরে পাওয়ার যতই চেষ্টা করুক না কেন, বর্তমান সময়ে প্রকৃত প্রতিযোগিতা তাদেরই সঙ্গে তৈরি হয়েছে। কোনো দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়, বরং নিজেদের দেশের স্বার্থ এবং পারস্পরিক সহযোগিতাকে সামনে রেখেই ব্রিক্স দেশগুলি বিশ্ব বাণিজ্যে এক নতুন বিকল্প প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *