৯৬ হাজার ফলোয়ার ছিল তরুণের! দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নৃশংস কায়দায় খুন, উত্তাল রাজ্য

উত্তরপ্রদেশের গোণ্ডা জেলায় এক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট তথা बर्तन कारोबारी (বাসন ব্যবসায়ী) বিনোদ সাহানির নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত বুধবার দের রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে ঘিরে ধরে লাঠি ও মোটরসাইকেলের চেন দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রথমে গোণ্ডা জেলা হাসপাতাল এবং পরে লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (KGMU) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
৯ মাস ধরে ছিল হুমকি: নিহত বিনোদ সাহানি সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন এবং তাঁর অ্যাকাউন্টে ৯৬ হাজারের বেশি ফলোয়ার ছিল। তিনি মূলত নিশাড সমাজ সংক্রান্ত বিভিন্ন অধিকার ও বিষয় নিয়ে সরব হতেন এবং পোস্ট করতেন। পরিবারের দাবি, ওই সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জেরে তাঁকে গত ৯ মাস ধরে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এই বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকেই জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের ক্ষোভ ও পুলিশের পদক্ষেপ: আহত হওয়ার পর পরিবার প্রথমে পুলিশ চৌকি ও পরে থানায় গেলে এফআইআর দায়ের করতে দেরি হয় বলে অভিযোগ করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই শুভম সিং ওরফে গোলু সিং, আকাশ সিং এবং সুভাষ সিং সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে পরিবার ও নিহতের ভাই বিনয় সাহানির দাবি, হামলায় ১০ থেকে ১২ জন যুক্ত ছিল। তাই বাকি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সহ তাদের বিরুদ্ধে এনকাউন্টার এবং বুলডোজার অ্যাকশনের তীব্র দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল: বিনোদের মৃত্যুর পরেই লখনউয়ের KGMU মর্গের বাইরে চরম রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। নিশাড পার্টির প্রধান তথা উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী সঞ্জয় নিশাড, ভিআইপি পার্টির প্রধান মুকেশ সহনি সহ সমাজবাদী পার্টির নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিচার ও কড়া শাস্তির দাবি তোলেন। অন্যদিকে, মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরির জোরালো দাবি উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলোও সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে।