সরাতে গেলেই ফেটে টুকরো টুকরো হবে মূর্তি! আইআইটি-বিজ্ঞানীদের হার মানানো ‘অলৌকিক’ হনুমান মন্দিরের আসল রহস্য কী?

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে রাস্তা চওড়া করার কাজ শুরু হয়েছে। আর এই উন্নয়নমূলক কাজের মাঝেই কন্থল চৌরাস্তা এবং ছত্রী চকের মাঝে সতী গেটে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘খড়ে হনুমানজি’ মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। রাস্তা প্রসারণের জন্য মন্দিরটি অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনা করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁদের বিশ্বাস, এর আগেও দু’বার এই মন্দির সরানোর চেষ্টা করা হলেও কেউ একে একচুলও নড়াতে পারেননি। স্থানীয় মানুষের দাবি, মন্দিরটি স্থানান্তরিত না করে বরং ওই জায়গাতেই আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে গড়ে তোলা হোক।

বিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল, নেপথ্যে কি অলৌকিকতা? প্রশাসন ও প্রকৌশলীরা মূর্তিটি সরানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও তা সম্ভব হয়নি। এসএআই (SAI), আইআইটি (IIT) এবং দেশের প্রথমসারির বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং দলের বিশেষজ্ঞরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও মূর্তিটি সরাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিজ্ঞানীদের এই হার মানার ঘটনাকে স্থানীয় মানুষ অলৌকিক বলে মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মূর্তিটির ভিত্তি কতটা গভীর তা অজানা। প্রাচীনকালে বড় মূর্তিগুলি ইন্টারলক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থাপন করা হতো, যার ফলে সরাসরি টেনে বের করার চেষ্টা করলে মূর্তিটি খণ্ডিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

‘ডাক্তার হনুমান’ ও তাঁর মাহাত্ম্য: স্থানীয় মানুষের কাছে এই মন্দিরটি অত্যন্ত পবিত্র এবং এর অলৌকিক ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। স্থানীয়রা এই মন্দিরকে ‘উজ্জয়িনীর এইমস’ বলে থাকেন এবং এখানকার হনুমানজিকে ‘ডাক্তার হনুমান’ হিসেবে পুজো করেন। মানুষের বিশ্বাস, এখানে সন্তান বা পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বা কোনো দুঃখ-কষ্ট থাকলে তা জানালে হনুমানজির কৃপায় তা দূর হয়ে যায়।

ইতিহাস ও প্রাচীন সংযোগ: খড়ে হনুমানজির এই মূর্তিটির ইতিহাস বেশ প্রাচীন। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৭০ বছর আগে এই মূর্তিটি বর্তমান স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, এই মূর্তিটি প্রায় ১০০০ বছরের পুরনো এবং পরমার রাজবংশের আমলের হতে পারে। এমনকি কিংবদন্তি রাজা ভোজের সময়ের সঙ্গেও এর যোগ থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে উজ্জয়িনী প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের এই সংঘাতের মাঝে প্রাচীন এই মন্দির ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে মধ্যপ্রদেশে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *