আইফোন ডুও-র দাম ৩ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা! আকাশছোঁয়া দাম শুনেও কেন কিনতে লাইন দিচ্ছেন মানুষ?

“This…is iPhone Duo”—ঠিক এইভাবেই অ্যাপলের (Apple) বহু প্রতীক্ষিত প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন, আইফোন ডুও-কে বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে এলেন সংস্থার বর্তমান চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার জন টার্নাস। কুপার্টিনোর এই টেক জায়ান্ট যে ফোল্ডেবল ফোন আনছে, সে গুঞ্জন মাসখানেক ধরেই বাতাসে ছিল। অবশেষে ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ করল আইফোন ডুও। স্যামসাং, মোটোরোলা বা রেডমির মতো ব্র্যান্ডগুলি আগেই ফোল্ডেবল বাজার দাঁপিয়ে বেড়ালেও, অ্যাপলের এই নতুন প্রজেক্ট নিয়ে যে ক্রেতাদের উন্মাদনা আকাশছোঁয়া থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
আকাশছোঁয়া দাম ও জল্পনা
আইফোন ডুও-র স্পেসিফিকেশন ছাপিয়ে এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে এর আকাশছোঁয়া মূল্য নিয়ে। এই ফোনের বেস মডেলটির দাম রাখা হয়েছে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা, যেখানে মিলবে ২৫6GB ইন্টারন্যাল স্টোরেজ। অন্যদিকে, এর সর্বাধিক স্টোরেজ মডেলটির দাম এক লাফে পৌঁছে গেছে ৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯০০ টাকায়! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—এত দাম দিয়ে আদতে কি এই ফোন কেউ কিনবেন? বা কিনতে সমর্থ হবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একাধিক স্মার্টফোন বিশেষজ্ঞ, রিটেল স্টোর ও অ্যাপেল ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রধানত তিনটি দারুণ বৈশিষ্ট্যের সন্ধান মিলেছে, যা এই ফোনটিকে আলাদা করে তুলেছে:
১. কোনও দৃশ্যমান ক্রিজ় (Crease) নেই: ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্ক্রিন ফোল্ড করার পর মাঝ বরাবর একটি ভাঁজ বা রেখা পড়ে যায়, যা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও মাটি করে। কিন্তু আইফোন ডুও-তে সেই সমস্যা দূর করা হয়েছে। ফোনটি সম্পূর্ণ খোলার পর মাঝখানে কোনো ক্রিজ় বা দাগ দেখা যায় না। রিভিউয়াররা নিশ্চিত করেছেন যে এটি পুরোপুরি ফ্ল্যাট স্ক্রিনের অভিজ্ঞতা দেয়।
২. অনবদ্য অ্যাসপেক্ট রেশিও: এই ফোনে ৫.৪ ইঞ্চির এক্সটার্নাল ডিসপ্লে এবং ৭.৬ ইঞ্চির ইনার ফোল্ডেবল স্ক্রিন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, উভয় স্ক্রিনের অ্যাসপেক্ট রেশিও একদম সমান (1:1.4 বা 14:10) রাখা হয়েছে। এর ফলে বাইরের ও ভিতরের স্ক্রিনে কনটেন্ট দেখার সময় নিখুঁত ভিজ্যুয়াল কনটিনিউটি বজায় থাকে।
৩. শক্তিশালী সিরি এআই (Siri AI) ও এ২০ চিপসেট: আইফোন ডুও-তে ব্যবহার করা হয়েছে সংস্থার লেটেস্ট A20 চিপসেট, যাতে রয়েছে ৬ কোর প্রসেসর এবং ১৬ কোর নিউরাল ইঞ্জিন। এর ফলে দুর্দান্ত কম্পিউটিং স্পিডের পাশাপাশি স্মার্ট টেক ক্যামেরা ফিচার এবং অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের ছোঁয়া মিলছে। ইমেল লেখা থেকে শুরু করে ট্রাভেল প্ল্যান বা ইমেজ এডিটিং—সবকিছুই এখন আরও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আইফোন ডুও-র দাম নিঃসন্দেহে অত্যধিক, তবে অ্যাপেল যেভাবে প্রিমিয়াম প্রযুক্তি ও অভাবনীয় ফিচার দিয়ে ফোনটি সাজিয়েছে, তাতে টেক প্রেমীদের কাছে এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।