২৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা! কাদের জন্য খুলল সৌভাগ্যের দরজা? জানুন খুঁটিনাটি

হঠাৎ আসা বড় কোনও অসুখ বা চিকিৎসার খরচ যে কোনও মুহূর্তেই একটি হাসিখুশি পরিবারকে আর্থিক সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভাবনা দূর করতে তামিলনাড়ু সরকার পরিচালিত ‘মুখ্যমন্ত্রীর বিস্তৃত স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প’ (CMCHIS) দীর্ঘদিন ধরে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলো নির্দিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পান। রাজ্য বিধানসভায় এই প্রকল্পের বার্ষিক বিমার পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২৫ লক্ষ টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে চিকিৎসা সুরক্ষার পরিধি এখন অনেকটাই বাড়ল। কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা? সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রকল্পের সাধারণ তালিকায় নাম তুলতে চাইলে পরিবারের বার্ষিক আয় ১.২০ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। একটি যোগ্য পরিবারের আওতায় আইনিভাবে বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীল বাবা-মা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফ্যামিলি কার্ড বা রেশন কার্ডে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম একদম সঠিক এবং আপডেট থাকতে হবে। তাই আবেদন করার আগে আয় এবং কার্ডের সমস্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া দরকার। আবেদনের জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন? বিমা কার্ডের জন্য আবেদন করার আগে কিছু জরুরি নথি প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় কাগজগুলির মধ্যে রয়েছে:পরিবারের বৈধ আয়ের শংসাপত্র (Income Certificate) আসল ফ্যামিলি কার্ড বা রেশন কার্ড এবং তার একটি ফটোকপি পরিবারের সব সদস্যের আধার কার্ড প্রথমে স্থানীয় প্রশাসন থেকে ইনকাম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। এরপর সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। রেশন কার্ডে কোনও ভুলত্রুটি থাকলে তা আগেই সংশোধন করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কীভাবে মিলবে এই স্বাস্থ্য কার্ড?এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া বেশ সহজ। প্রথমে নিশ্চিত করুন যে আপনার পরিবারের বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। এরপর ইনকাম সার্টিফিকেট, রেশন কার্ড ও আধার কার্ড সঙ্গে নিয়ে আপনার জেলার কালেক্টর অফিসে অবস্থিত নির্দিষ্ট CMCHIS কার্ড সেন্টারে যেতে হবে। সেখানে সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যোগ্যতা যাচাইয়ের পরই হাতে আসবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য বিমা কার্ড। অফলাইনের পাশাপাশি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করার সুবিধা রয়েছে। চিকিৎসা করাবেন কোথায়?কার্ড হাতে পাওয়ার পর এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পেতে পারেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানকার হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করে জেনে নেওয়া ভালো যে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাটি এই বিমার আওতাভুক্ত কি না। কোন কোন হাসপাতাল এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত, তার বিস্তারিত তালিকা সরকারি পোর্টালে পেয়ে যাবেন। বিমার পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা আগেই করা হলেও, সরকারি পোর্টালে আয় সংক্রান্ত শর্তগুলো খতিয়ে দেখে তবেই পদক্ষেপ করা উচিত। যে কোনও প্রয়োজনে প্রকল্পের অফিসিয়াল হেল্পলাইন নম্বর 1800 425 3993-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।