হোটেল ব্যবসায়ীকে খুনে চাঞ্চল্যকর মোড়! ঝাড়খণ্ডের সুপারি কিলিংয়ে গ্রেপ্তার কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট ও সিভিক ভলান্টিয়ার

ঝাড়খণ্ডের এক হোটেল ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় এবার সরাসরি নাম জড়াল কলকাতা পুলিশের। ১৫ লক্ষ টাকার সুপারি কিলিং ও ভাড়াবাড়ির খুনিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং তাঁর অধীনস্থ এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে। এই ঘটনায় লালবাজারের অন্দরে এবং গোটা পুলিশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ধৃতদের পরিচয় ও গ্রেপ্তারি পর্ব
ঝাড়খণ্ড পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে দুই অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে অয়ন গুপ্ত বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পিঙ্কল দাস একই বিভাগে সিভিক ভলান্টিয়ারের দায়িত্বে ছিলেন। ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হলেই ধৃতদের ঝাড়খণ্ডে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল ঝাড়খণ্ডে?
গত মাসেই ঝাড়খণ্ডের সরাইকেল্লা-খারসাওয়ান জেলার চন্দিল থানা এলাকায় নিজের হোটেলের সামনে খুন হন ব্যবসায়ী নিখিল সবলোক। দিনের আলোয় তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর আট রাউন্ড গুলি চালিয়ে চম্পট দেয় ভাড়াবাড়ির শ্যুটাররা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার চুক্তিতে ওই খুন করানো হয়েছিল। তবে খুনের পর চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা না মেলায় অভিযুক্তদের মধ্যে বনিবসা না হওয়ায় সেই সূত্র ধরেই একে একে অপরাধীদের নাগাল পায় পুলিশ।

কীভাবে ফাঁদে পড়লেন কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট?
এই মামলায় এর আগে ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ মিলিয়ে মূল চক্রী অশোককুমার সিংহ ওরফে রাঘব-সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু মামলার মোড় ঘোরে যখন ধৃত রাঘবের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্তের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের জোরালো প্রমাণ পান তদন্তকারীরা। মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান ও কল রেকর্ডের সূত্র ধরে সোজা কলকাতায় হানা দেয় ঝাড়খণ্ড পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, খুনের পর মূল অভিযুক্তদের কলকাতায় লুকিয়ে রাখা, আশ্রয় দেওয়া এবং নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন এই সার্জেন্ট ও সিভিক ভলান্টিয়ার। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রেও তাঁদের প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

লালবাজারের কড়া পদক্ষেপ ও বিভাগীয় তদন্ত
গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই অভিযুক্ত অয়ন গুপ্তকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে লালবাজার। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত পিঙ্কল দাসকেও সিভিক ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কাজ চলছে। ২০১৪ সালে কলকাতা পুলিশে যোগ দেওয়া অয়নের বিরুদ্ধে এর আগেও বাহিনীর অন্দরে নানা ক্ষমতার অপব্যবহার ও জমি দখল মামলায় ধৃত এক প্রাক্তন পুলিশকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন ছিল। ধৃত পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারকে ঝাড়খণ্ডে নিয়ে গিয়ে মুখোমুখি জেরা করলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের সমস্ত নেপথ্য কাহিনী স্পষ্ট হবে বলেই আশা সিট-এর আধিকারিকদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *