শ্যাম্পেনের গ্লাস হাতে নাচছে বউমা! ফ্ল্যাটে রক্তে ভাসছেন শ্বশুর! ৬ লাখের সুপারি কিলিংয়ের নেপথ্যে কোন রহস্য?

একপাশে পানশালায় গান-নাচের মোহময় পরিবেশ আর বন্ধুদের সঙ্গে হাসিমুখের আড্ডা; অন্যদিকে নিজেরই ফ্ল্যাটে রক্তে ভেসে যাচ্ছেন শ্বশুর—কানপুরের এক কোটিপতি ওষুধ ব্যবসায়ীর নৃশংস খুনের ঘটনায় এমনই হাড়হিম করা তথ্য সামনে এনেছে পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ইন্দিরা নগর এলাকার বাসিন্দা তথা বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচাকে তাঁর নিজের ফ্ল্যাটে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে পরিবারেরই পুত্রবধূ শালু মিনোচার বিরুদ্ধে। ধারালো অস্ত্রের ২৬টিরও বেশি কোপে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সিসিটিভি বিতর্ক
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, শ্বশুরবাড়ির কড়া নজরদারি এবং আর্থিক রাশ টেনে রাখা নিয়ে বহু দিন ধরেই ক্ষুব্ধ ছিলেন পুত্রবধূ শালু। সম্প্রতি বাড়ির বসার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পর শালু আপত্তি জানিয়ে দাবি করেছিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বলতে আর কিছুই রইল না। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি তাঁর পুরনো পারিবারিক কর্মচারী বিশাল গৌতমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, ৬ লক্ষ টাকার চুক্তিতে শ্বশুরকে খুন করার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ঘুমন্ত অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে মেরে তা স্বাভাবিক হার্ট অ্যাটাক বলে চালিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। এমনকি প্রায় ২০ দিন আগে কৌশলে বাড়ির একটি নকল চাবিও শালু তৈরি করিয়ে দিয়েছিলেন খুনিদের হাতে।
পার্টির আড়ালে খুনের ছক
ঘটনার রাতে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তিলক নগরের একটি লাউঞ্জে পার্টি করতে যান শালু। আর সেই সুযোগেই নকল চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে বিশাল ও তার এক সঙ্গী। ব্যবসায়ীকে একা পেয়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁকে উপর্যুপরি কুপিয়ে খুন করা হয়। তদন্তে উঠে আসা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিকটি হলো, যখন ওই ব্যবসায়ী নিজের ঘরে বাঁচার জন্য ছটফট করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই শালু ক্লাবে নাচছিলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ও ফোনের মাধ্যমে আততায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন।
পুলিশের জালে মূল অভিযুক্তরা
পরদিন ভোরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে শালুও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। কিন্তু পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড তাঁর সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, শালু ও মূল অভিযুক্তের মধ্যে বিগত কয়েক মাসে শতাধিক ফোন কল ও টেক্সট আদান-প্রদান হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দুই আততায়ী ও ষড়যন্ত্রের মূল কাণ্ডারী পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের অন্দরের এই ঠাণ্ডা মাথার নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্র প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।