ষাঁড়ের গোবর নাকি পুজোর প্রসাদ? আমিষ বিতর্ক নিয়ে গ্লাসগো থেকে কী সাফাই দিলেন বাগেশ্বর বাবা?

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চলা তরজা এখন চরমে। মধ্যপ্রদেশের সন্ত বাগেশ্বর বাবার বিতর্কিত মন্তব্যের পর বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তাঁর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাগেশ্বর বাবা কাউকে কিছু জোর করে চাপিয়ে দিতে চাননি। এই উত্তেজনার মধ্যেই এবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে সরাসরি মুখ খুললেন খোদ বাগেশ্বর বাবা।

বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে গ্লাসগো থেকে তিনি দাবি করেছেন, কারও খাওয়া নিয়ে তাঁর কিছু বলার নেই। তিনি বলেন, বাঙালিরা তাঁদের নিজেদের লোক। পাশাপাশি তিনি এও স্পষ্ট করেন যে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে দেবী প্রতিমার আশপাশে পবিত্রতা বজায় রাখার কথাই তিনি বলেছিলেন। প্যান্ডেলের ভেতরে নয়, মাছ-মাংস বাড়িতে খাওয়ার পরামর্র্শ দিয়ে তাঁর দাবি, ধর্মগুরু হিসেবে তিনি কেবল হিংসা ও পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন, কারও জীবনে কোনও নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য নয়।

এদিকে বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্যে বাঙালি ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে এই অভিযোগ তুলে কলকাতার ভবানীপুরে তীব্র বিক্ষোভে নামে কংগ্রেস। ভবানীপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে যুব কংগ্রেস কর্মীরা তাঁর ছবি পোড়ান এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পুলিশ কমিশনারকে সরাসরি কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন বিরোধী দলনেতা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে লালবাজার। ভবানীপুরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাকিদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *