ছেলের সামনেই পরকীয়া! তারপর যা করল মা ও তার প্রেমিক, তা শুনলে রক্ত জমে যাবে আপনার ধমনিতে!

উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলার মহারাজপুর থানা এলাকা থেকে এক অত্যন্ত নৃশংস ও লোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে। মায়ের অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় ১৪ বছরের এক কিশোরকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। মায়ের পরকীয়া দেখে ফেলায় নিজের ঔরসবাসজাত সন্তানকেই গলা টিপে খুন করার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে! শুধু তাই নয়, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর সারারাত ছেলের নিথর মরদেহের পাশেই বসে থেকে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ওই কুৎসিত মনের মা।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার রাতের। পরদিন শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত নারী পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে দেন যে, তাঁর ১৪ বছরের ছেলের হঠাতই তীব্র অসুস্থতা দেখা দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মায়ের এই সাফাইয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে স্থানীয়দের মনে। কারণ, ওই মহিলার সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের অবৈধ সম্পর্কের গুঞ্জন আগেই কানে গিয়েছিল গ্রামবাসীর। কোনো কিছু লুকানো হচ্ছে বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে খবর দেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়েই মহারাজপুর থানা পুলিশ এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তদন্তের সময় ওই কিশোরের গলা এবং শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাতের স্পষ্ট ও সন্দেহজনক চিহ্ন দেখতে পান তদন্তকারীরা। স্বাভাবিক মৃত্যুর তত্ত্ব উড়িয়ে পুলিশ দ্রুত মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ময়নাতদন্তে খুনের তথ্য ফাঁস, বাবা থাকেন মুম্বইতে
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসতেই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং ঠাণ্ডা মাথায় খুন। রিপোর্টে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কিশোরটির মৃত্যু কোনো অসুস্থতার কারণে নয়, বরং তার শ্বাসনালী বা গলা টিপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
জানা গেছে, মৃত কিশোরের বাবা মুম্বইতে থেকে শटरিংয়ের কাজ করে পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতেন। বাড়িতে স্ত্রী ও তিন ছেলে থাকত। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবেশীর এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ওই মহিলা। বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের মধ্যে দুজনকে आपत्तिজনক পরিস্থিতিতে দেখে ফেলেছিল কিশোরটি। আর সেই সত্য ফাঁস করে দেওয়ার ভয়েই নিজের ছেলেকে এই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয় তারা।
আত্মহত্যার চেষ্টা প্রেমিকের, পলাতক অভিযুক্ত
এদিকে, গ্রামে যখন এই খুনের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং পুলিশি তদন্ত জোরদার হয়, তখন গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে অভিযুক্ত প্রেমিক। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সে নিজের বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তবে ঠিক সময়ে পরিবারের লোক ও প্রতিবেশীদের নজরে পড়ে যাওয়ায় তারা চিৎকার করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামিয়ে আনে। এরপর সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় ওই যুবক। কানপুর পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করে অভিযুক্ত মাকে ইতিমধ্যেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে এবং পলাতক প্রেমিককে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশের একাধিক দল।