ডাউ জোনস ও নাসডাকে রক্তক্ষরণ! ট্রিপল ডিজিট পার করে ১০০ ডলার ছাড়ানো কাঁচা তেল কি মার্কিন বাজারে বড় ধসের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

হু হু করে বেড়ে চলা কাঁচা তেলের (Crude Oil) দাম এবং চড়া বন্ড ইল্ডের জোড়া ফলায় বৃহস্পতিবার বড় ধরণের ধাক্কা খেল মার্কিন শেয়ার বাজার। এর পাশাপাশি অগাস্ট মাসে প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স বা পিপিআই (PPI)-এর ঊর্ধ্বমুখী পরিসংখ্যান বাজারের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে চিপ ও টেক স্টকগুলিতে ব্যাপক পতনের জেরে সার্বিকভাবে বড়সড় দরপতনের সাক্ষী থাকল ওয়াল স্ট্রিট।
তেলের দাম ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা উত্তেজনার পারদ চড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর জেরে ইউএস ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১০৬ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, যা গত ১৯ মের পর থেকে সর্বোচ্চ। পাইকারি বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স বা পিপিআই ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই হার বেশি হওয়ায় আগামী সপ্তাহে ইউএস ফেডের বৈঠক নিয়ে সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা প্রায় ৬৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
সূচকের পতন ও টেক স্টকের বেহাল দশা
চলতি সপ্তাহের এই ধসের প্রভাব পড়েছে সমস্ত প্রধান সূচকগুলিতে। ডাউ জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ২০৯ পয়েন্ট বা ০.৪০ শতাংশ কমে ৫২,১৭১ পয়েন্টের আশপাশে লেনদেন করছে, যা এক সময় ৩৭৪ পয়েন্ট পর্যন্ত পতন দেখেছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি নির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ১১৭ পয়েন্টের বেশি পতন নিয়ে ২৬,১৩৬ পয়েন্টের ঘরে ধুঁকছে।
টেক জায়ান্ট ও চিপ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির মধ্যে মাইক্রন ৪.৩%, এএমডি ২.৩%, স্যান্ডিস্ক ৪%-এর বেশি এবং ইন্টেল প্রায় ৫% পর্যন্ত ধসের মুখোমুখি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি এনভিডিয়াও প্রায় ৩ শতাংশ পতনের মুখে পড়েছে। তবে এর মধ্যেও অ্যাপল এবং স্পেসএক্স-এর শেয়ার সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মত ও আগামী নজর
বন্ড মার্কেটে ১০ বছর ও ৩০ বছরের ট্রেজারি ইউল্ড বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে (যথাক্রমে ৪.৯% এবং ৫.৩৪%) পৌঁছে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চার্লস সোয়াবের ট্রেডিং প্রধান জো ম্যাজোলার মতে, আগামী সপ্তাহে ফেডের পলিসি বৈঠক এবং সুদের হারের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন সমস্ত বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার প্রকাশিত হতে চলা মার্কিন কনজুমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) বা খুচরো মুদ্রাস্ফীতির ডেটার ওপর নির্ভর করছে বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।