দুর্গাপুজো না লিখলে মিলবে না বইয়ের স্টল! বিধানসভায় নতুন তুঙ্গে ওঠা এই বিতর্ক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল!

দুর্গাপুজোর মরশুমে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল দেওয়া নিয়ে বিধানসভায় বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, স্টলে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে কোনওভাবেই তা করতে দেওয়া হবে না; সেখানে স্পষ্টভাবে ‘দুর্গাপুজো’ নামটাই লিখতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, এই পুরো বিষয়ের মূল লক্ষ্য ‘শারদোৎসব’ শব্দটির বিরোধিতা নয়, বরং বই ও মুক্তচিন্তার ওপর কোপ বসানো।

মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের নেপথ্যে কী?

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, এক শ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা পরে সনাতনীদের আক্রমণ করছেন এবং গেরুয়া শিবিরকে বেছে বেছে টার্গেট বানাচ্ছেন। সেই সূত্র ধরেই তিনি বামেদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন যে, তারা যে বইয়ের স্টল করেন সেখানে ‘দুর্গাপুজো’ না লিখে যদি ‘শারদোৎসব’ লেখা হয়, তবে সেই স্টল বসতে দেওয়া হবে না।

সুজন চক্রবর্তীর তীব্র পাল্টা চ্যালেঞ্জ

মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঙ্কারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কড়া ভাষায় জানান যে, ‘শারদোৎসবের বইস্টল হবেই, কেউ তা আটকাতে পারবে না’—এই বলে তিনি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। সুজনের দাবি, ‘শারদোৎসব’ শব্দটির সঙ্গে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গভীর যোগ রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শারদোৎসব’ থেকে শুরু করে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কথাপাঠ—বাঙালির সংস্কৃতিতে এই শব্দ অত্যন্ত পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থানকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আপনার ভয় বইকে নিয়ে, আপনি শারদোৎসবকে ভয় পাচ্ছেন।” বামেদের বইয়ের স্টল বসানোর এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *