হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম! মধ্যবিত্তের পকেট ফাঁকা করতে আসরে কে?

ইরান যুদ্ধের চরম উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বেসামাল হয়ে উঠেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। গত ১০ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল বা ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে, যা চলতি বছরের ২৫ মের পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড। লাগাতার এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলা সংঘাত এই দাম বৃদ্ধির প্রধান অনুঘটক। মার্কিন নৌ অবরোধের মুখে তেহরান পিছু না হটার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এবং ওয়াশিংটনের তরফ থেকেও হামলা অব্যাহত থাকায় দ্রুত যুদ্ধবিরতির সব আশার আলো নিভে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। এর জেরে পেট্রল ও ডিজেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত আগস্ট মাসের শুরুর তুলনার বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এরই পাশাপাশি, তেলের দাম আকাশচোঁয়া হওয়ার পেছনে আরও একটি বড় কারণ হলো সৌদি আরবের উৎপাদন হ্রাস। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তেল সরবরাহে লাগাতার হামলার হুমকির মুখে সৌদি আরবের তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ওপেক-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত আগস্ট মাসে সৌদি আরব দৈনিক মাত্র ৬২ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে, যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মাসিক উৎপাদন এবং জুলাই মাসের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম।
এই পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বের নজর এখন চিনের দিকে। চিন বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে তেলের বাজারের আগামী গতিপ্রকৃতি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে বেজিংয়ের তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভৌত বাজার আরও শক্তিশালী হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার এই পরিস্থিতিতে চিন যদি তাদের আমদানি কমিয়ে দেয়, তবেই হয়তো এই ঊর্ধ্বমুখী দামে কিছুটা লাগাম টানা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই আগুন দাম সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চলেছে।