হাতছাড়া হওয়া আসন পুনরুদ্ধারের মহা-মাস্টারপ্ল্যান! নন্দীগ্রামে কি তবে প্রার্থী হচ্ছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

আগামী ৯ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনাগর বিধানসভা উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম আসনটি নিয়ে রাজ্যজুড়ে চোরানল তৈরি হয়েছে, কারণ শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া এই আসন থেকেই কি তবে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন?—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতা ও বিধায়ক আখুর জামান এক চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব দিয়ে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাঁর গোষ্ঠী কোনো প্রার্থী দেবে না। এই বার্তার পরেই জল্পনা বহুগুণ বেড়ে গেছে যে, এই হাই-প্রোফাইল আসনের লড়াইয়ের মাধ্যমেই কি তবে ফের বিধানসভায় ফিরে আসার বড় কোনো চাল চালতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। উল্লেখ্য, এর আগে বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে নন্দীগ্রামে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা। ফলে এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে অধিকারী বনাম বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক দ্বৈরথ ফের চরমে ওঠার ইঙ্গিত মিলছে।

যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে কুনাল ঘোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দল। কে প্রার্থী হবেন, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে দলনেত্রী ও শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত বার্তার ওপর। এর আগে রেজিনাগর আসন থেকে মমতার লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও, জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ূন কবিরের ছেলের নাম সেখানে জড়িয়ে যাওয়ায় এখন সমস্ত ফোকাস ঘুরে গেছে নন্দীগ্রামের দিকেই। সব মিলিয়ে, বিরোধী গড়ে ঘাসফুল শিবির কী কৌশল নেয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক ময়দানে নামেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *