পুজোর মুখেই বঙ্গে উপনির্বাচনের দামামা! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে কড়া নজর কমিশনের

দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের ভোটের হাওয়া। রাজ্যের দুই হাইপ্রোফাইল বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ অক্টোবর প্রকাশিত হবে পরীক্ষার ফল। আর এই ভোটের ঘোষণা হতেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে প্রশাসন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দুই কেন্দ্রেই বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল নন্দীগ্রাম বিধানসভার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০০৮ ব্যাচের কর্নাটক ক্যাডারের আইপিএস অফিসার এম বি বোরালিঙ্গাইয়াকে। বিশেষ আকর্ষণীয় বিষয় হল, এই আইপিএস অফিসার পোশাক ও পেশার পাশাপাশি একজন চিকিৎসকমূলক ডিগ্রির অধিকারীও বটে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভায় আইনশৃঙ্খলা সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঝাড়খণ্ড ক্যাডারের আইপিএস হরিলাল চৌহানকে, যাঁর আদি নিবাস রাজস্থানে।
কেন এই উপনির্বাচন?
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর— দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন এবং ভবানীপুর নিজের কাছে রাখেন। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নওদা— দুটি আসনেই জয়লাভ করেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। নিয়ম অনুযায়ী তিনি একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় রেজিনগর কেন্দ্রটি খালি হয়। এই শূন্য আসন দুটিতেই এবার উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ফোকাস নন্দীগ্রামে
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া আসন হওয়ায় নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই কেন্দ্র থেকে বিরোধী শিবির কাকে প্রার্থী করে, সেদিকেই সব রাজনৈতিক দলের নজর আটকে রয়েছে। তবে প্রার্থীর নাম যাই হোক না কেন, এই দুর্গ রক্ষা করতে এবং রেকর্ড মার্জিনে বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী করতে ইতিমধ্যেই ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, পালাবদলের আবহাওয়া কাটিয়ে রেজিনগর নিজের দখলে রাখতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি কতটা কী করতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল