৮.৬৪ কোটির গহনা পরে বিয়ে করাই কাল! নিমেষেই হাতকড়া পড়ল নববধূর গায়েব হওয়া স্বামীর হাতে।

জমকালো আয়োজনে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকার গহনা পরে বিয়ে সেরে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনসেশন হয়ে উঠেছিলেন এক দম্পতি। কিন্তু সেই সুখ টিকল মোটে কদিন! বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। অবৈধ সম্পত্তি ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ সোজা গ্রেফতার করল বরকে, আর এবার জেরার মুখে পড়ে শ্রীঘরে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার কনেও।

ঠিক কী ঘটেছিল তুরস্কে?

তুর্কির ওই হাই-প্রোফাইল বিয়েতে কনের শরীর জুড়ে ঝলমল করছিল প্রায় ৪৪ মিলিয়ন তুর্কি লিরা অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮.৬৪ কোটি টাকার বহুমূল্য সোনা, হিরে এবং অন্যান্য গহনা। বিদেশি মুদ্রা আর নগদ অর্থের ছড়াছড়ির সেই দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় ব্যাপক চর্চা। তবে এই বিলাসবহুল প্রদর্শনীই কাল হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বর মেহমত ফাতিহ তাঁচালান (Mehmet Fatih Tançalan) পূর্বে অপরাধমূলক কাজকর্ম এবং বেআইনি সম্পদ অর্জনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে পুলিশ ওই ব্যক্তির বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে আটক করে। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর এবার স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে পুলিশের নজরে এসেছেন তাঁর স্ত্রী তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার কাগলা ওজ (Çağla Öz)। স্বামীর গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেন, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

গহনা কি সত্যিই মালিকের, নাকি ভাড়ার?

পুলিশের জেরার মুখে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত সমস্ত গহনা তাঁদের নিজস্ব নয়। বরং স্থানীয় এক জিউলার্সের কাছ থেকে সেগুলি নেহাতই ভাড়ায় আনা হয়েছিল এবং অনুষ্ঠান শেষ হতেই তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কনের ইনফ্লুয়েন্সার পরিচয়ের সুবাদে কিছু কোম্পানি নাকি স্পনসরশিপের অংশ হিসেবে এই বহুমূল্য জিনিসপত্র সরবরাহ করেছিল বলেও দাবি করা হয়। তবে আদালতের নথিপত্রে এই দাবির সপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ মেলেনি।

বর্তমানে প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের নির্দেশে এবং অন্যান্য আইনি ধারার অধীনে এই ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। কোটি কোটি টাকার এই সম্পত্তির আসল উৎস কোথায় এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *