রাতে ফ্যান চালিয়ে ঘুমোলেই মৃত্যু! জেনেনিন আসল কেসটা কী? হঠাত্‍ VIRAL কেন?

গরমকালে ঘরের সিলিং ফ্যান ঘুরবে না, এমন কথা এ দেশে কল্পনাই করা যায় না। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ফ্যানের মৃদু হাওয়ায় শান্তির ঘুম ঘুমোনোটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু একটু পূর্ব এশিয়ার দিকে তাকালেই দেখা যাবে সম্পূর্ণ উলটো চিত্র। বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ও আধুনিক দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘ দশক ধরে মানুষ রাতে ঘরে ফ্যান চালিয়ে ঘুমোতে রীতিমতো আতঙ্কিত বোধ করেন। বন্ধ কামরায় সারারাত ফ্যান চললে মৃত্যু অবধারিত—এই আজব বিশ্বাস নিয়ে বহু পুরনো এক লোককথা আবারও বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছে।

এই অন্ধবিশ্বাসের পেছনে প্রচলিত রয়েছে একাধিক অদ্ভুত যুক্তি। দক্ষিণ কোরিয়ার বহু মানুষের দীর্ঘদিনের ধারণা ছিল, একটানা ফ্যান চললে ঘরের তাপমাত্রা হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে নেমে গিয়ে হাইপোথার্মিয়া হতে পারে। আবার অনেকে বিশ্বাস করতেন, বন্ধ ঘরে ফ্যানের অবিরাম বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় এবং দমবন্ধ হয়ে মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণায় এই দাবিগুলির কোনও সত্যতা মেলেনি। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে কেবল ফ্যানের বাতাসে মৃত্যুর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

এই বিশ্বাসের গভীরতা থেকেই অনুমান করা যায়, সেখানে বিক্রি হওয়া অনেক পাখাতেই টাইমার লাগানো থাকত। লোকেরা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পাখার টাইমার সেট করে দিত যাতে এটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর অর্থ হল, বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ যাকে গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার উপায় মনে করে, তা দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রাচীণ বিশ্বাসে ভয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

এই অদ্ভুত সংস্কৃতির ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সত্তরের দশকে চরম জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তার সময় থেকেই এই ধারণার ব্যাপক প্রচার শুরু হয়। সে সময় সংবাদমাধ্যমে ফ্যানের হাওয়ায় মৃত্যুর বিভিন্ন মনগড়া খবর প্রকাশিত হতে শুরু করে, যার নেপথ্যে সরকারি প্রচারেরও ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।

উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে সারারাত ফ্যান চালিয়ে বিদ্যুৎ অপচয় করা থেকে বিরত রাখা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রচারই এক অনড় লোকবিশ্বাসে রূপ নেয়। তবে বর্তমান যুগে ইন্টারনেট এবং বিজ্ঞানমনস্কতার প্রসারে দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্ম এই পুরনো ভীতিকে প্রকাশ্যে প্রশ্ন করতে শুরু করেছে, যা এই অদ্ভুত ধারণার ভিত নড়বড়ে করে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *