কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে উপচে পড়া ভিড়! রাজকীয় ভোগে কী কী থাকছে মায়ের থালায়?

আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র কৌশিকী অমাবস্যা। এই বিশেষ তিথি উপলক্ষে বীরভূমের তারাপীঠে লক্ষ লক্ষ ভক্তের ঢল নেমেছে। আজ ভোর তিনটে নাগাদ মন্দির খোলার পর মা তারাকে স্নান করানো হয় এবং মঙ্গলারতি সম্পন্ন হয়। এরপর ভোর চারটে থেকে সর্বসাধারণের জন্য মন্দিরের দরজা পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে দুপুরের দিকে প্রায় এক ঘণ্টা মন্দির বন্ধ থাকবে।

আজ মা তারার বিশেষ রাজকীয় ভোগের আয়োজন করা হয়েছে। দুপুরের মধ্যাহ্নভোজে থাকছে খিচুড়ি, সাদা অন্ন, বলিদানের মাংস, শোল মাছ পোড়া, পাঁচ থেকে সাত রকমের মাছ, চাটনি, পায়েস ও নানা পদের মিষ্টি। এছাড়া সন্ধ্যায় মায়ের মহাসন্ধ্যারতি অনুষ্ঠিত হবে এবং ভক্তদের সুবিধার জন্য সারারাত মন্দিরের দরজা খোলা থাকবে।

‘কৌশিকী অমাবস্যা’ নামের নেপথ্যের আসল রহস্য কী?

সনাতন ধর্মে পূজা-অর্চনা ও নানা বৈদিক ক্রিয়াকর্মে ‘কুশ’ অত্যন্ত পবিত্র ও প্রয়োজনীয় একটি উপাচার। যজ্ঞ থেকে শুরু করে শ্রাদ্ধ, তর্পণ কিংবা নিত্যপুজো—নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বহুকাল ধরে কুশের ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে। লেক কালীবাড়ির প্রধান সেবায়ত নিতাইচন্দ্র বসু জানান, দেবকর্ম হোক বা পিতৃকর্ম, কুশের আসন বা পবিত্র উপাচার হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

সামনেই মহালয়া। ভাদ্র মাসের এই অমাবস্যার সঙ্গে কুশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। মূলত এই কুশকে কেন্দ্র করেই এই বিশেষ তিথির নামকরণ হয়েছে ‘কুশ অমাবস্যা’, যা কালক্রমে কৌশিকী অমাবস্যা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কুশের পবিত্রতা নিয়ে পুরাণে বিভিন্ন কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। মহাভারতের তথ্য অনুযায়ী, অমৃতের সঙ্গে কুশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মাতৃঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য গরুড় স্বর্গ থেকে অমৃত এনে তা কুশের ওপর রেখেছিলেন। সেই পবিত্র অমৃত নাগেরা চাটতে যাওয়ায় তাদের জিভ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। তাই পৌরাণিক মতে, কুশ নিছক কোনো সাধারণ তৃণ বা ঘাস নয়, বরং অত্যন্ত পবিত্র ও মাহাত্ম্যপূর্ণ এক উপাদান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *