পুজোতে পাতে পড়বে কি পদ্মার ইলিশ? ভারতে মাছ পাঠাতে নড়েচড়ে বসল ঢাকা

আসন্ন দুর্গাপুজোয় এ রাজ্যের মানুষের পাতে পদ্মার ইলিশ আসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল। হাসিনা জমানা থেকে ইউনূস আমল—সব সময়ই পুজোর আগে ভারতে ইলিশ আসার রেওয়াজ বজায় ছিল। তবে তারেক রহমানের জমানাতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই পুজোর আগেভাগে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর, বিদেশ মন্ত্রক ও বাণিজ্য মন্ত্রকে পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, গতবারের মতো স্বল্প সময়ের পরিবর্তে এবার অন্তত দুই মাস বা সারা বছর ইলিশ রফতানির সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছেন বাংলাদেশি রফতানিকারকরাও। মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ঋণপত্র খোলা এবং মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ শেষ করা কঠিন হওয়ায় এই দীর্ঘমেয়াদী দাবি তোলা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ভারতের মাছ ব্যবসায়ীদের চিঠির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রক বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। মাছের সরবরাহ ও চাহিদা যাচাই করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রকের কাছে মত চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রক। ওপার বাংলার ১৮টি প্রতিষ্ঠান ভারতে ইলিশ পাঠানোর জন্য আবেদন জানিয়েছে। বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলির আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ১৯৯৬ সালের পর রফতানিতে নানা টানাপোড়েন চললেও, ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর পুজোর আগে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দিয়ে আসছে ঢাকা। এখন দেখার, বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত পুজোর বাজারে এদেশীয় ক্রেতাদের মুখে হাসি ফোটে কি না।