৪ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা ক্যাশ! মার্কিন নির্বাচনে জিতলেই কি প্রতি নাগরিককে বড় অঙ্কের খয়রাতি দেবেন ট্রাম্প?

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার এখন একদম তুঙ্গে। এর মধ্যেই দেশের ভোটারদের মন জয় করতে এক বিরাট আর্থিক ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডালাসে আয়োজিত এক নির্বাচনী সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, নভেম্বরের ‘মিডটার্ম ইলেকশনে’ যদি কংগ্রেসের দুটি চেম্বারই রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫০০০ ডলার করে দেওয়া হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকারও বেশি। সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বার্তা দিয়েছেন, ব্যালটে তাঁর নাম রয়েছে ধরে নিয়েই যেন সবাই ভোটদান করেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয়বারের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ট্রাম্প। মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের চার বছরের কার্যকালের ঠিক মাঝপথে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে তা নির্ধারিত হয়। আমেরিকার কংগ্রেসই দেশের নতুন আইন প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ, যুদ্ধ ঘোষণা এবং বিচারক বা মন্ত্রীদের নিয়োগ অনুমোদন করে থাকে। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকার অর্থ সরকারের যাবতীয় সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। তবে বর্তমানে ডেমোক্র্যাটস শিবিরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকায় এবং সাম্প্রতিক সমীক্ষায় সমর্থন কমায় রিপাবলিকানদের আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প।
আমেরিকাজুড়ে সমালোচনার ঝড়
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ট্রাম্পের এই ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা মার্কিন রাজনীতিতে সম্পূর্ণ বেনজির। আমেরিকার প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫০০০ ডলার করে দিতে গেলে মোট ১ ট্রিলিয়ন ডলার (প্রায় ৯৫ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি ভারতীয় টাকা) খরচ হবে। কিন্তু এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ঠিক কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। ট্রাম্পের দাবি, দেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং অর্থের কোনো কমতি নেই।
সাম্প্রতিক একাধিক সমীক্ষায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটার টান দেখা গেছে। বিশেষ করে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইরান সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ জমা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ মানুষের এই অসন্তোষ ঢাকতেই খয়রাতির এই অস্ত্র ব্যবহার করছেন ট্রাম্প। যদিও ইরান যুদ্ধ এবং দেশের অর্থনীতি নিয়ে নিজের সাফল্যের দাবি বজায় রেখেছেন তিনি। মার্কিন রাজনীতিতে বাঁকবদলের এই মুহূর্তে ট্রাম্পের এই মাস্টারস্ট্রোক নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।