‘মাছ-মাংস-মদিরা ছাড়া মায়ের পুজো হয় নাকি!’-বাগেশ্বর বাবার নিদান উড়িয়ে দিল তারাপীঠ মন্দির

বিশেষ তিথিতে প্রতিবারের মতো এবারও তারাপীঠে মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে কৌশিকী অমাবস্যা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতেই মহাশ্মশানে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামদেব। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১১ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই তিথি চলবে শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। মা তারার দর্শন ও প্রসাদ পেতে ইতিমধ্যেই মন্দিরে উপচে পড়েছে ভক্তদের ভিড়। সকাল থেকেই রাজবেশে সাজানো হয়েছে দেবীকে।

এদিকে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়ার বিরুদ্ধে বাগেশ্বর বাবার দেওয়া নিদানকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন তারাপীঠ কর্তৃপক্ষ। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, ভিন রাজ্যের বা বাইরের কারও কথায় বাঙালির চিরাচরিত সংস্কৃতি বদলাবে না। মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য মেনেই তারাপীঠে মা তারাকে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হচ্ছে।

তারা মায়ের দুপুরের মহাভোগের থালায় থাকছে শোল মাছ পোড়া, ৭ রকমের ভাজা, কাতলা মাছ ভাজা, পোলাও, বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস, ৫ রকমের মিষ্টি এবং মদিরা। ভোরে মঙ্গল আরতির পর শীতল ভোগ হিসেবে ফল, মিষ্টি ও ক্ষীর নিবেদন করা হয়। এছাড়া দেবীর উদ্দেশ্যে আতপ চাল, নারকেল, ঘি এবং ১০৮টি রক্তজবা অর্পণ করা হয়। রাতে মন্দির চত্বরে শুধুমাত্র সেবাইতদের অংশগ্রহণে বিশেষ মহাযজ্ঞ ও নিশিপুজো অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে, বিগত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা মাথায় রেখে কৌশিকী অমাবস্যায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে ৪,০০০ পুলিশ কর্মী। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে প্রায় ২০০ জন দমকল কর্মী, ৮টি বিশেষ রোবট ফায়ার টেন্ডার এবং ২৫ সদস্যের বিপর্যয় মোকাবিলা টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো চত্বর নজরদারির আওতায় রাখতে ১১টি ওয়াচ টাওয়ার, ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন এবং ফেস রিকগনিশন ক্যামেরার ব্যবহার করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *