‘খাদ্যে ভেজাল মানে মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে খেলা!’ নামী রেস্তোরাঁগুলি নিয়ে সরাসরি কড়া বার্তা মন্ত্রীর

কোথাও ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হয়েছে পচা মাছ-মাংস, তো কোথাও খাবারে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রং। খাদ্যসুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করায় এবার কলকাতার প্রায় ৪০টি নামী দোকান ও রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করার বড়সড় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। খাদ্যের মান ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করা হলে সেই সমস্ত দোকান একযোগে বন্ধ করে দেওয়া উচিত— এমনই কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পাশাপাশি প্রশাসনিক কড়াকড়ির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি বরদাস্ত নয়: অগ্নিমিত্রা পাল

এদিন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ভাষায় জানান, রেস্তোরাঁ বা হোটেল যদি সঠিক স্বাস্থ্যবিধি না মানে এবং মিষ্টির দোকানে ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হয়, তবে তা কেবল প্রশাসনিক নিয়মভঙ্গ নয়, বরং সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলার সমান এক গুরুতর অপরাধ। অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে যেমন কড়া হাতে লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপ করা হয়, ঠিক একইভাবে এই ধরণের বেপরোয়া রেস্তোরাঁ ও খাদ্যবিপণির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সাধারণ মানুষকে প্রতিবাদের আহ্বান দিলীপ ঘোষের

পুরো বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষকেও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার দাবি জানিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সরকার পরিস্থিতি শুধরে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও বহু দিন ধরে এই অনিয়ম চলে আসছে। আগের সরকারের আমলে এই বিষয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলেই আজ পরিস্থিতি এতদূর গড়িয়েছে। খাদ্যাভ্যাসে অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গেস্ট হাউস ও পর্যটন নিয়ে পরামর্শ

তারাপীঠ ও কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যেই শহরের ৯১৯টি গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিস ধরিয়েছে কলকাতা পুরসভা। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে একসঙ্গে এতগুলি গেস্ট হাউস বন্ধ হওয়ায় পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের পরামর্শ, হোটেল মালিকদের উচিত দ্রুত সমস্ত পরিকাঠামো ঠিক করে সরকারের কাছে লাইসেন্স রিনিউ করার আবেদন জানানো, নচেৎ পুজোর মরশুমে বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়তে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *