জন্মদিনের সকালেই বড় চমক! বলিউড ছাড়িয়ে কত হাজার কোটি টাকার মালিক বলিউডের আসল ‘খিলাড়ি’?

ভোরের আলো ফোটার আগেই যাঁর ঘুম ভাঙে, বলিউডের সেই সবচেয়ে নিয়মানুবর্তী ও ফিট অভিনেতা অক্ষয় কুমারের আজ জন্মদিন। বছরের পর বছর পর্দায় দুর্দান্ত সব স্টান্ট থেকে শুরু করে নিখাদ হাসির রোলে দর্শকদের ভরপুর বিনোদন জুগিয়ে যাওয়া এই তারকার ফিটনেস রুটিন যতটা কড়া, পকেটের জোরও ঠিক ততটাই জমাটি। একের পর এক হিট সিনেমা, নামী-দামি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে মুখ দেখানো আর ব্যবসায় বুদ্ধিদীপ্ত বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে নিজের এক বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলিউডের ‘খিলাড়ি’। জন্মদিনের বিশেষ এই মুহূর্তে একনজরে দেখে নেওয়া যাক তাঁর অঢেল সম্পত্তির তাক লাগানো খতিয়ান।
সম্পত্তির পরিমাণ ও সিনেমার পারিশ্রমিক:
সাম্প্রতিক বিভিন্ন বাণিজ্যিক রিপোর্ট ও আর্থিক হিসেব অনুযায়ী, অক্ষয় কুমারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২,৭০০ কোটি টাকা। বর্তমানে তিনি প্রতি ছবি বা প্রজেক্টের পারিশ্রমিক হিসেবে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে ছবির লভ্যাংশের অংশীদারিও রাখেন তিনি। শুধু অভিনয় নয়, নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘কেপ অফ গুড ফিল্মস’-এর মাধ্যমে একের পর এক বাণিজ্যসফল কাজ উপহার দিয়েছেন তিনি। বিজ্ঞাপনের জগতেও তাঁর চাহিদা আকাশছোঁয়া; কেবল একটি ব্র্যান্ডের প্রচারে মুখ দেখাতে তিনি প্রায় ৬ কোটি টাকা বা তার বেশি পারিশ্রমিক নেন।
বিলাসবহুল বাসস্থান ও রিয়েল এস্টেট:
অক্ষয়ের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার বহর যে কাউকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে। মুম্বইয়ের জুহুতে সমুদ্রমুখী একটি চোখধাঁধানো বাংলোয় স্ত্রী টুইঙ্কল খান্না ও সন্তানদের নিয়ে থাকেন তিনি। প্রায় ৮০ কোটি টাকা মূল্যের এই বাসভবনটির অন্দরমহল স্বয়ং টুইঙ্কলের সুনিপুণ তত্ত্বাবধানে সাজানো হয়েছে। শুধু মুম্বই নয়, গোয়ায় রয়েছে তাঁর একটি পর্তুগিজ ধাঁচের রাজকীয় ভিলা। এমনকি দেশের গণ্ডী পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্য—যার মধ্যে মরিশাসের বিচ বাংলো এবং কানাডার টরন্টোতে একাধিক বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও সম্পত্তি উল্লেখযোগ্য।
গাড়ির কালেকশন ও প্রাইভেট জেট সংক্রান্ত সত্যি:
বলিউড খিলাড়ির গ্যারেজে তাকালে বিশ্বের তাবড় সব মার্সিডিজ-বেঞ্জ, রোলস রয়েস, বেন্টলে কিংবা রেঞ্জ রোভারের মতো বিলাসবহুল ও হাই-স্পিড গাড়ির দেখা মিলবে। তবে একসময় তাঁর নামে ২৬০ কোটি টাকার একটি প্রাইভেট জেট থাকার কথা শোনা গেলেও, অভিনেতা নিজেই সেই জল্পনা প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়েছিলেন। তাই সেই তথ্য তাঁর প্রকৃত সম্পত্তির তালিকায় ধরা হয় না।
ব্যক্তিগত পরিশ্রম ও সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলার জোরে সাধারণ রাজীব হরি ওম ভাটিয়া থেকে আজকের মহাতারকা হয়ে ওঠার এই পথচলায় বিপুল সম্পত্তির পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ করদাতাদের তালিকাতেও নিয়মিত নিজের নাম লিখিয়েছেন অক্ষয় কুমার।