হড়পা বান আর মৃতদেহের স্তূপের মাঝেই ভয়াবহ ভূমিকম্প! ফের বড় বিপদের মুখে নেপাল

হড়পা বানের গ্রাসে নেপালের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকাজে চারদিক থেকে একের পর এক দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এর মধ্যেই নতুন করে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বন্যা বিধ্বস্ত নেপাল। মঙ্গলবার রাতে দেশটির একাধিক জেলায় এই ভূকম্পন অনুভূত হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভূমিকম্পের মাত্রা ও কেন্দ্রস্থল

ন্যাশনাল আর্থকোয়েক মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের (NEMRC) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে নেপালের স্থানীয় সময় ৯টা ৫৩ মিনিট নাগাদ এই কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৩। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৩৭৫ কিলোমিটার দূরে লোমানথাংয়ে ছিল এই ভূমিকম্পের এপিসেন্টার। মনং, দলপা ও মিয়াগডি জেলাসহ আশপাশের একাধিক এলাকায় কম্পন টের পাওয়া গেলেও প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র পেতে কিছুটা সময় লাগছে।

নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে নতুন বিপদের আশঙ্কা

ভূমিকম্পের পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলের অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গন্ডকি প্রদেশের কিমরুং নদীতে ভূমিধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে গিয়েছে। এর জেরে কিমরুং নদী থেকে কালীগণ্ডকী নদীর সঙ্গমস্থল পর্যন্ত নিচু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। নদীর জল আটকে হঠাৎ হড়পা বান বা ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কায় নয়াপুল, বিরেঠান্তি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্বিমুখী কোপ

গত ২৬ অগাস্টের ভয়াবহ বিপর্যয়ের রেশ এখনও কাটেনি। সেবার হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকায় উচ্চভূমির হিমবাহ ধসে প্রচুর জল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় রাসুয়া জেলা এবং তিব্বতের বিস্তীর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বহু বাড়ি, রাস্তা ও সেতু ধুলিসাৎ হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনও সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলছে। এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে ভূমিকম্প ও নদীর গতিপথ আটকে যাওয়ার ঘটনায় নেপালের সার্বিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এখন চরম সংকটের মুখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *