আমেরিকার গর্বে সরাসরি ঘা! হরমুজ প্রণালী থেকে আমেরিকার অত্যাধুনিক সাবমেরিন ছিনতাই করল ইরান

পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনার মধ্যেই আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি বড় পদক্ষেপ করল ইরান। হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথ থেকে মার্কিন সেনার একটি অত্যন্ত আধুনিক এবং স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন বাজেয়াপ্ত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। শুধু তাই নয়, বাজেয়াপ্ত করা ওই ডুবোজাহাজের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে এনে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় শোরগোল ফেলে দিয়েছে তেহরান।
আইআরজিসি-র মুখপত্র ‘সেপাহ নিউজ’ জানিয়েছে, একটি রুদ্ধশ্বাস গোপন অভিযানে ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) নামের ওই সাবমেরিনটি জলের নিচ থেকে আটক করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি সংস্থা অ্যান্ডুরিল-এর তৈরি এই সাবমেরিনটি অত্যন্ত শক্তিশালী। একটানা ১০ দিন জলের নিচে থেকে কাজ করার পাশাপাশি প্রায় ১৯ হাজার ৭০০ ফুট গভীরে গিয়ে শত্রুর ওপর নজরদারি চালানোর ক্ষমতা রয়েছে এর। ভারতীয় মুদ্রায় এক একটি এই সাবমেরিনের দাম প্রায় ২৪ কোটি টাকা। শুধু সাবমেরিন দখলই নয়, হরমুজ প্রণালীর আকাশে আমেরিকার একটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোনও গুলি করে নামানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর আমেরিকার সেনার তরফে সাফাই দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, কিছুদিন আগেই জলের নিচে তাদের একটি সাবমেরিন বিকল হয়ে গিয়েছিল। তবে তাতে কোনো স্পর্শকাতর তথ্য বা সংবেদনশীল রেডার ইকুইপমেন্ট ছিল না বলেই দাবি ওয়াশিংটনের। যদিও ইরানের বাজেয়াপ্ত করা ওই সাবমেরিনটিই সেই বিকল হওয়া মার্কিন ডুবোজাহাজ কি না, সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু খোলসা করেনি পেন্টাগন।
শত্রুপক্ষের গতিবিধি বুঝতে এবং প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে গত কিছুদিন ধরেই হরমুজ এলাকায় চালকহীন ড্রোন ও স্মার্ট সাবমেরিনের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে আমেরিকা। কিন্তু খোদ মার্কিন প্রযুক্তির এই অত্যাধুনিক অস্ত্র ইরানের হাতে চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে।]]>