২০ বা ৩০-এর কোঠাতেই হাঁটুর বারোটা বাজছে? ছুটির দিনে অজান্তে এই ভুল করছেন না তো!

হাঁটু ব্যথা মানেই কি শুধু প্রবীণদের রোগ? একদমই নয়! আজকাল ২০ বা ৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরাও সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে বা মাটিতে বসতে গিয়ে তীব্র হাঁটু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বয়স বাড়লে জয়েন্ট ক্ষয় হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু এত কম বয়সে হাঁটু বিগড়ে যাওয়ার জন্য বয়স নয়—দায়ী আমাদের রোজকার কিছু চরম অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
উইকএন্ডের অতিরিক্ত কসরতেই যত বিপত্তি! চিকিৎসকেরা বলছেন, সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করছে সারা সপ্তাহ ডেস্কে বসে কাজ করা এবং উইকএন্ডে গিয়ে হঠাৎ বেশি ব্যায়াম বা খেলাধুলোর ভূত চাপা। সোমবার থেকে শুক্রবার একটানা চেয়ারে বসে থাকার পর হঠাৎ রবিবার মাঠে নেমে উদ্দাম ক্রিকেট, ফুটবল খেলা বা জিমে গিয়ে অতিরিক্ত ওজন তোলা হাঁটুর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সারা সপ্তাহ অলস বসে থাকার কারণে হাঁটুর চারপাশের পেশিগুলো শক্ত হয়ে থাকে। সেই অবস্থায় শরীরকে প্রস্তুত না করে হঠাৎ দৌড়ঝাঁপ করলে বা হঠাৎ বাঁক নিলে হাঁটুর নরম লিগামেন্ট প্রচণ্ড ধাক্কা খায়। সেখান থেকেই টান লেগে বা ছিঁড়ে গিয়ে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে।
ওজন বৃদ্ধিও বড় শত্রু দ্বিতীয় বড় শত্রু হলো শরীরের বাড়তি মেদ। হাঁটু আমাদের গোটা শরীরের ভার একা বইয়ে নিয়ে চলে। শরীরের ওজন এক কেজি বাড়লেও হাঁটুর ওপর সেই চাপ গিয়ে পড়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি। অতিরিক্ত ওজনের চাপ নিয়ে যখন হাঁটাচলা বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা হয়, তখন নরম কার্টিলেজ দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে।
তাহলে বাঁচবেন কীভাবে? হাঁটু ভালো রাখতে শরীরচর্চা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, বরং নিয়ম মেনে করতে হবে। হুট করে ভারী কসরত না করে আগে হালকা গা-ঘামানো শরীরচর্চা (ওয়ার্ম-আপ) করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি কোমর ও উরুর পেশি শক্ত করার সাধারণ ব্যায়ামগুলো অভ্যাস করলে হাঁটুর ওপর বাড়তি ভার পড়বে না।
কখন চিকিৎসক দেখানো জরুরি? বিশ্রাম নিলে হালকা চোট বা টান কমে যেতে পারে। কিন্তু যদি দেখা যায় হাঁটু বারবার ফুলে যাচ্ছে, পা ভাঁজ করতে গিয়ে আটকে যাওয়ার মতো ভাব হচ্ছে, হাঁটার সময়ে ভারসাম্য রাখা যাচ্ছে না কিংবা ব্যথা টানা কয়েক সপ্তাহ ভোগাচ্ছে, তবে একেবারেই ফেলে রাখা ঠিক হবে না। অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আসল ক্ষতিটা শুরুতেই আটকে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।