বাইরে থেকে কেনা নয়! ঘরেই পেতে নিন একদম দোকানের মতো পারফেক্ট ও ক্রিমি দই

গ্রীষ্ম হোক বা শীত, বাঙালির ভোজন রসনায় দইয়ের কদর চিরকালীন। কিন্তু বাজারের প্যাকেটবন্দি বা মিষ্টির দোকানের চড়া দামের দইয়ে অনেক সময়ই ভেজাল বা অতিরিক্ত মিষ্টির আশঙ্কা থাকে। আবার বাড়িতে দই পাততে গেলে অনেক সময় তা ঠিকমতো জমে না বা জল কেটে যায়। তবে একটু কৌশল জানলে বাড়িতেই খুব সহজে দোকানের চেয়েও সুস্বাদু ও পারফেক্ট দই তৈরি করা সম্ভব।
খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে তৈরি দই শরীরের জন্য অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ। কারণ এতে কোনো ধরনের প্রিজারভেটিভ বা কৃত্রিম রাসায়নিক মেশানোর প্রয়োজন হয় না। ঘরের তৈরি এই দইয়ে ভরপুর মাত্রায় ভালো ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
ঘরে দোকানের মতো দই পাতার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী কিছু উপায় নিচে দেওয়া হলো:
দুধের সঠিক তাপমাত্রা: দই পাতার জন্য দুধ প্রথমে ভালোভাবে ফুটিয়ে কুসুম গরম বা ঈষদুষ্ণ অবস্থায় নামিয়ে নিতে হবে। দুধ খুব বেশি গরম থাকলে ব্যাকটেরিয়া মারা যাবে, আর ঠান্ডা হলে দই জমবে না।
সঠিক বীজ বা মাদার কালচার: দুধের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে পুরনো টক দই বা ঘোল ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে টক দই যেন খুব বেশি জলযুক্ত না হয়।
দই পাতার সঠিক পাত্র: মাটির পাত্রে দই পাতলে দুধের অতিরিক্ত জল শুষে নেয়, ফলে দই বেশ ঘন ও ক্রিমি হয়। কাঁচের বা স্টিলের পাত্রেও এটি তৈরি করা সম্ভব।
নির্দিষ্ট সময় ও উষ্ণতা: দইয়ের মিশ্রণটি ঢাকা দিয়ে কোনো উষ্ণ ও অন্ধকার জায়গায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এই সময়ে পাত্রটি একেবারেই নাড়াচাড়া করা যাবে না।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ঘরের তৈরি এই ফ্রেশ দই নিয়মিত ডায়েটে রাখলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীর সতেজ থাকে। তাই বাজারের ওপর নির্ভর না করে আজই ঘরে তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু দই।