১৫ বছরের মানসিক নির্যাতন আর ষড়যন্ত্রের অবসান! সিবিআই আদালত থেকে বিরাট স্বস্তি পেলেন আচার্য বালকৃষ্ণ

জাল শিক্ষাগত ও অন্যান্য নথি ব্যবহার করে পাসপোর্ট হাসিল করার অভিযোগে দীর্ঘ ১৫ বছর আইনি লড়াই চলার পর অবশেষে বড় ধরনের স্বস্তি পেলেন বাবা রামদেবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং পতঞ্জলি যোগপীঠের সাধারণ সম্পাদক আচার্য বালকৃষ্ণ। দেরাদুনের একটি সিবিআই বিশেষ আদালত সমস্ত অভিযোগ থেকে তাঁকে সম্পূর্ণ খালাস দিয়েছে। এই রায়ের পর পতঞ্জলি যোগপীঠজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় যোগগুরু স্বামী রামদেব দাবি করেছেন, এটি কেবল বালকৃষ্ণের জয় নয়, বরং রামদেব, বালকৃষ্ণ ও পতঞ্জলিকে ধ্বংস করার এক গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করল এই আদালত।
২০১১ সালে সিবিআই একটি মামলা দায়ের করে অভিযোগ তুলেছিল যে আচার্য বালকৃষ্ণ মূলত একজন নেপালি নাগরিক এবং তিনি জাল নথি ব্যবহার করে ভারতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। সেই মামলায় দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপক্ষ বালকৃষ্ণের বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে বিশেষ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিবিআই) আদালত বালকৃষ্ণ এবং তাঁর সহ-অভিযুক্ত নরেশ চন্দ্র দ্বিবেদীকে এই মামলা থেকে রেহাই দিয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্বামী রামদেব। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে আচার্য বালকৃষ্ণকে লাগাতার মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাঁর নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কুৎসা ও অপবাদ ছড়ানো হয়েছে। এমনকি বালকৃষ্ণকে জেলে পচিয়ে দেওয়ার এবং তারপর কারগারেই তাঁকে শেষ করে দেওয়ার মতো গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। রামদেবের ভাষায়, “আমরা জানতাম না যে সত্যের জয় হতে এত বছর সময় লাগবে, তবে দেরাদুনের সিবিআই আদালতের এই রায় প্রমাণ করে দিল যে শেষ পর্যন্ত সত্যের ও সনাতনেরই জয় হয়েছে।”
দীর্ঘ এই আইনি টানাপোড়েন প্রসঙ্গে আচার্য বালকৃষ্ণ নিজে জানিয়েছেন যে দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর তাঁর unwavering আস্থা সবসময়ই বজায় ছিল। তবে এই দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর বিচার প্রক্রিয়ার জেরে তাঁকে যে চরম অপমান, অপবাদ ও জনরোষের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সত্যের জয়ে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। আমৃত্যু আয়ুর্বেদ ও সনাতন ধর্মের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে যাওয়া বালকৃষ্ণের এই আইনি মুক্তি পতঞ্জলি শিবিরের কাছে এক বিরাট নৈতিক জয় বলেই মনে করা হচ্ছে।