চাকরি ছাড়লেও ৫ বছর টাকা জমা না দিলে কি পিএফ-এর সুদ পাবেন? জেনে নিন ইপিএফও-র আসল নিয়ম!

এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর পিএফ (PF) অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাটি হলো, চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বা অ্যাকাউন্টে নতুন করে টাকা জমা দেওয়া বন্ধ হওয়ার তিন বছর পর পিএফ-এর সুদ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মটি এভাবে কাজ করে না। ইপিএফও-র সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী, বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো সদস্যের বয়স ৫৮ বছর হওয়া পর্যন্ত তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হতে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি যদি ৪০ বছর বয়সে চাকরি ছেড়ে দেন এবং তাঁর জমানো পিএফ-এর টাকা অ্যাকাউন্টেই রেখে দেন, তবে শুধু তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেই তাঁর সুদ বন্ধ হয়ে যাবে না। ইপিএফও-র নিয়ম অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাঁর বয়স ৫৮ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ পরবর্তী ১৮ বছর ধরে সুদ পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন।

৩ বছরের ইনঅপারেটিভ বা নিষ্ক্রিয় নিয়মের আসল অর্থ কী? ইপিএফও-র স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো অ্যাকাউন্টকে তখনই ‘নিষ্ক্রিয়’ বা ‘ইনঅপারেটিভ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যখন কোনো সদস্যের অবসর গ্রহণ, স্থায়ীভাবে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া কিংবা মৃত্যুর পর টানা ৩৬ মাস বা তিন বছর ধরে অ্যাকাউন্টে নতুন কোনো অনুদান জমা পড়ে না। এই নির্দিষ্ট নিয়মটি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়করণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও, সাধারণ সদস্যের ক্ষেত্রে ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত সুদ পাওয়ার অধিকারে সরাসরি কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।

ট্যাক্সের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি: পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া সমস্ত সুদই যে সবসময় পুরোপুরি করমুক্ত হয়, এমনটা নয়। আয়কর আইনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমার অতিরিক্ত অবদানের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত সুদের ওপর কর বা ট্যাক্স প্রযোজ্য হতে পারে। তাই চাকরি ছাড়ার পর জমানো টাকার ওপর পাওয়া সুদ করযোগ্য হবে কি না, তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট অবদান এবং আইনি বিধানের ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *