ইডি-র নথি ও সরকারি রিপোর্টের ভিত্তিতে দুর্নীতির বোমা! মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে উত্তাল তামিলনাড়ু বিধানসভা, বহিষ্কৃত ডিএমকে বিধায়করা

বিধানসভায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) নথি এবং একাধিক সরকারি রিপোর্টের ভিত্তিতে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ তোলার পর থেকেই চরম রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফুটছে তামিলনাড়ু। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের করা চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের জেরে মঙ্গলবার বিধানসভার অন্দরে তীব্র হট্টগোল ও স্লোগান শুরু হয়। ডিএমকে বিধায়কদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয় যে মুখ্যমন্ত্রীর সেই সমস্ত বিতর্কিত ও দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য যেন বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে বিধানসভার স্পিকার জেসিডি প্রভাকরণ সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দেওয়ায় ধুন্ধুমার কাণ্ড বেধে যায় এবং প্রধান বিরোধী দল ডিএমকের বিধায়কদের জোর করে হাউসের বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
ডিএমকের আপত্তি ও আইনি লড়াই
মঙ্গলবার অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গেই ডিএমকে হুইপ ইভি ভেলু সোচ্চার হয়ে দাবি করেন, ইডির দুর্নীতির অভিযোগ এবং অতীতের বিভিন্ন মামলা বা কমিশন সংক্রান্ত যে সমস্ত তথ্য মুখ্যমন্ত্রী হাউসে পেশ করেছেন, তা বিধানসভার প্রথা ও নিয়মের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ভেলু আপত্তি জানিয়ে বলেন, যে সমস্ত মামলার তদন্ত এখনও আদালতে বিচারাধীন, সেই বিষয় নিয়ে বিধানসভায় মন্তব্য করা যায় না। এছাড়া ১৯৭০-এর দশকের সারকারিয়া কমিশনের রিপোর্ট এবং এমআইএসএ (MISA) আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যেরও তীব্র বিরোধিতা করে ডিএমকে। তাদের দাবি ছিল, সেই সময় নির্দিষ্ট কোনো অপরাধ খুঁজে পায়নি ওই কমিশন।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে ডিএমকের এই আপত্তির তীব্র ও কড়া জবাব দেন আইনমন্ত্রী আর নির্মল কুমার। সারকারিয়া কমিশনের রিপোর্ট এবং ইডির অফিশিয়াল নথির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে ডিএমকে সরকারের আমলেই কাঠগড়ায় উঠেছিল দুর্নীতির পাহাড়। মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য চলাকালীন ডিএমকে সদস্যরা তুমুল হট্টগোল শুরু করেন এবং ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন।
স্পিকারের কড়া পদক্ষেপ ও বহিষ্কার
পরিস্থিতি পুরোপুরি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় স্পিকার জেসিডি প্রভাকরণ সাফ জানিয়ে দেন যে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে মুছে ফেলার কোনও প্রয়োজন নেই। স্পিকার বলেন, সোমবার যখন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তাঁর বক্তব্য রাখছিলেন, তখন ডিএমকে সদস্যরা এক মিনিটও শান্ত হয়ে তা শোনেননি। এরপর হাউসের লিডার কেএ সেনগোত্তাইয়ান বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবাদী ডিএমকে বিধায়কদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানান। স্পিকারের নির্দেশমতো মার্শালরা ডিএমকে বিধায়কদের বিধানসভা কক্ষ থেকে জোর করে বের করে দেন। হল থেকে বাইরে যাওয়ার সময়ও ডিএমকে বিধায়করা তীব্র স্লোগান চালিয়ে যান।
উল্লেখ্য, সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ইডি নথির কথা তুলে ধরে ডিএমকের বিরুদ্ধে দলীয় তহবিলের নামে ব্যাপক তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন, বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন এবং মন্ত্রী সেন্থিল বালাজির মতো হেভিওয়েট নেতারা এই দলীয় তহবিল সংগ্রহ ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একইসঙ্গে পুরনো সারকারিয়া কমিশন রিপোর্টের উল্লেখ করে ডিএমকে প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করুণানিধির বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সবমিলিয়ে এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে তামিলনাড়ুর বিধানসভা চত্বর।