মাথার ওপর মারণ জালের ছুটি! বালুরঘাট শহরে বিদ্যুতের তার মাটির নীচে নিয়ে যাওয়ার মেগা পরিকল্পনা

বালুরঘাট শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে বিশৃঙ্খলভাবে ঝুলে থাকা তার কিংবা বাড়ির ছাদ ও বহুতলের গা ঘেঁষে যাওয়া হাইভোল্টেজের তার দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের ভীতি ও আশঙ্কার স্থায়ী সমাধান করতে এবার বড় উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর। পাইলট প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের যে কয়েকটি শহরকে বেছে নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সদর বালুরঘাট। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের পরেই এই প্রকল্পের রূপরেখা প্রকাশ্যে এসেছে।

বিদ্যুৎ দপ্তরের পরিকল্পনা ও বর্তমান পরিস্থিতি

দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যুতের খুঁটিতে কেবল লাইনের পাশাপাশি ইন্টারনেট ও অন্যান্য নানা ক্যাবল জড়িয়ে জট পাকিয়ে থাকে। বর্ষার মরশুমে এই খোলা তারের জেরে শর্ট সার্কিট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ত্রিফলা বাতির খুঁটিগুলি থেকেও অনেক সময় তার বেরিয়ে থাকতে দেখা যায়। এই বিপদ থেকে মুক্তি পেতেই শহরের সমস্ত বিদ্যুতের তার মাটির নিচ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ডিপিআর (DPR) তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা বিদ্যুৎ দপ্তরের রিজিওনাল ম্যানেজার সৌভিক সরকার জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

কী বলছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা?

বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় জানান, শহরের খোলা তারের জেরে সাধারণ মানুষের বিপদের আশঙ্কা নিয়ে তিনি আগেই জেলা বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় শহরবাসী আরও একটি বড় উপহার পেল বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার মনে করেন, রাজ্যের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় বালুরঘাট পরিকাঠামোর দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে, তাই মাটির নিচ দিয়ে তার নেওয়ার এই কাজ সম্পন্ন হলে শহর আরও আধুনিক ও উন্নত হয়ে উঠবে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দা অপূর্ব মণ্ডল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, কাজটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বালুরঘাটবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার নিরাপত্তা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *