ভিড়ভাট্টা ভুলে সপ্তাহান্তে ঘুরে আসুন ‘ছোটনাগপুরের রানি’ থেকে! বর্ষায় এর রূপ দেখলে চোখ ফেরাতে পারবেন না!

শহরের চেনা ধুলোবালি, গরম আর একঘেয়ে কোলাহল থেকে কদিনের জন্য একটু শান্তি খুঁজছেন? ঝাড়খণ্ডের কোলে লুকিয়ে থাকা ‘ছোটনাগপুরের রানি’ নেতারহাট বর্ষার মরশুমে এক মোহময় রূপ ধারণ করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৬২২ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই হিল স্টেশনটিকে ব্রিটিশরা ভালোবেসে বলতেন ‘নেচার্স হার্ট’। আর সেখান থেকেই এর নাম হয়েছে নেতারহাট।
বর্ষা এলেই মালভূমির শুকনো রুক্ষ রূপ বদলে গিয়ে এক্কেবারে প্রাণোচ্ছল হয়ে ওঠে। চারপাশের শাল, সেগুন ও মহুয়া বনে নতুন পাতা গজায়, আর লাল মাটি ঢেকে যায় সবুজ কার্পেটে। পাহাড়ে উঠলেই মনে হবে মেঘ এসে সোজা আপনার হোটেলের বারান্দায় উঁকি দিচ্ছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই এমন ঘন কুয়াশা বা মেঘ নেমে আসে যে দু’হাত দূরের জিনিসও আর দেখা যায় না। মেঘ-রোদ্দুরের এই লুকোচুরি খেলাই এখানকার মূল আকর্ষণ।
নেতারহাটের ৫টি মাস্ট ভিজিট স্পট ১. ম্যাগনোলিয়া সানসেট পয়েন্ট: নেতারহাটের সবচেয়ে বিখ্যাত এই পয়েন্ট থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য এককথায় অবর্ণনীয়। বিকেলের দিকে মেঘের ফাঁকে লাল-কমলা রঙের আকাশ দেখার অনুভূতি অসাধারণ। ২. আপার ও লোয়ার ঘাগরি জলপ্রপাত: বর্ষার ছোঁয়ায় এই জলপ্রপাতগুলি জলে একেবারে টইটম্বুর হয়ে ওঠে। তবে লোয়ার ঘাগরিতে যাওয়ার পথ কিছুটা ঘন জঙ্গলাকীর্ণ ও পিচ্ছিল হওয়ায় স্থানীয় গাইড নেওয়া ভালো। ৩. কোয়েল ভিউ পয়েন্ট: এখান থেকে প্রায় ১০০০ ফুট নিচে কোয়েল নদীর বয়ে যাওয়ার দৃশ্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। নদী ও ও ওপারের ঘন জঙ্গল মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকে। ৪. নেতারহাট আবাসিক স্কুল ও পাইন ফরেস্ট: ১৯৫৪ সালে তৈরি ব্রিটিশ আমলের এই বিখ্যাত স্কুল এবং এর পাশের পাইন বনে জমে থাকা মেঘ আপনাকে হিমাচল বা সিমলার অনুভূতি দেবে। ৫. লোধ জলপ্রপাত: নেতারহাট থেকে প্রায় ৬০ কিমি দূরে অবস্থিত ঝাড়খণ্ডের এই উচ্চতম জলপ্রপাতের (৪৭০ ফুট) গর্জন বর্ষায় বহু দূর থেকে শোনা যায়।
কীভাবে যাবেন ও কী কী মানবেন? কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিমি। হাওড়া থেকে ট্রেনে রাঁচি গিয়ে সেখান থেকে সড়কপথে নেতারহাট পৌঁছানো যায়। এছাড়া সরাসরি গাড়িতেও এই রুট ধরে যাওয়া বেশ সহজ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস হলো এখানে যাওয়ার সেরা সময়। ভ্রমণের সময় সঙ্গে ছাতা, রেইনকোট, ভালো গ্রিপের জুতো এবং পোকামাকড় থেকে বাঁচার প্রয়োজনীয় ওষুধ অবশ্যই রাখবেন।