গভীর রাতে ঘরের বাইরে তালা ঝুলিয়ে ছাদে জোড়া খুন! বিহারের সাসারামে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে শিহরিত এলাকাবাসী

বিহারের রোহতাস জেলার সাসারাম মুফসল থানা এলাকার বেনারসিয়া গ্রামে গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত একটি বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে এবং ছাদে ঘুমিয়ে থাকা এক পুরুষ ও এক নারীকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি মূলত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ভয়াবহ হামলায় নিহত দু’জনের নাম নানকি দেবী (৪০) এবং মণি ভূষণ কুমার (৪০)। রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুরো গ্রামে চরম থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ধর্ষ খুন করা হলো, তার আসল উদ্দেশ্য এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে ঘরের ভেতর আটকে রাখা হয়েছিল
মৃতের ছেলে অভিষেক কুমারের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় অপরাধীরা সুপরিকল্পিতভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে। সেই সময়ে অভিষেক ও তার ভাই বাড়ির নিচতলার একটি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘাতকরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাইরে থেকে তাঁদের ঘরের দরজা আটকে বা তালাবন্ধ করে সোজা ছাদে চলে যায়।
এর কিছুক্ষণ পরেই ছাদ থেকে পরপর গুলির ভয়াবহ শব্দ ভেসে আসে। সেই শব্দে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর দুই ভাই ঘরের ভেতর থেকেই চিৎকার শুরু করেন। এদিকে, কাণ্ডকারখানা শেষ করে অপরাধীরা দ্রুত ছাদ থেকে নিচে নেমে বাইরে থেকে ঘরের তালা খুলে পালিয়ে যায়।
পারিবারিক পটভূমি ও স্থানীয়দের তৎপরতা
এদিকে গুলির শব্দ ও পরিবারের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা বাইরে থেকে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরের লোকজনকে উদ্ধার করেন। এরপর ছাদে উঠে তাঁরা নানকি দেবী ও মণিভূষণকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখেন। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নানকি দেবীর প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তাঁর প্রতিবেশী দেবরকে পুনরায় বিয়ে করেন। তাঁরা দুজনে মিলে গ্রামে একটি সার ও বীজের দোকান চালাতেন। তবে এই পারিবারিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্কের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত ও প্রাথমিক অনুমান
খবর পাওয়ামাত্রই মুফসল থানার পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতয়ে দেখে। উভয় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাসারামের সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে মুফসল থানার কর্মকর্তা রাজীব রঞ্জন সিং জানান, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও অজানা থাকলেও, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশ বিভিন্ন দিক থেকে তল্লাশি শুরু করেছে। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, পুরোনো শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো গোপন কারণ রয়েছে কি না, তা সামনে আনতে তদন্ত চলছে। তবে মধ্যরাতে সুরক্ষিত বাড়িতে জোরপূর্বক ঢুকে এই ধরনের জোড়া খুনের ঘটনা গ্রামীণ এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।