চোখের পলকে আকাশ থেকে খসবে শত্রুর ড্রোন! মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁক ঝাঁক মিসাইল ধ্বংস করতে আসছে ভারতের ব্রহ্মাস্ত্র

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করে আরও এক ধাপ আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে ভারত। শত্রুপক্ষের যেকোনো আক্রমণকে মুহূর্তের মধ্যে ধূলিস্যাৎ করতে এবার অত্যন্ত উন্নত ও শক্তিশালী এক অস্ত্র তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। সম্প্রতি ‘শিল্ড’ (Shield) কর্মসূচির অধীনে একটি বিশেষ ও অত্যন্ত শক্তিশালী সিস্টেম তৈরির জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা বা আরএফপি (RFP) জারি করেছে ডিআরডিও। এই অভিনব প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো মাঝআকাশেই শত্রুর ড্রোন, রাডার এবং অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক অস্ত্রগুলিকে চিরতরে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া।
অদৃশ্য শক্তির ধাক্কায় ধ্বংস হবে শত্রুর ড্রোনের ঝাঁক
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের নির্দেশিত-শক্তি অস্ত্র (DEW), ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ (Electronic Warfare) সক্ষমতা এক লাফে বহু গুণ বেড়ে যাবে। প্রস্তাবিত এই ‘এস-ব্যান্ড উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ সিস্টেম’ (S-Band High-Power Microwave System) প্রকল্পটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে, যা গ্যালভানিয়াম নাইট্রাইড (GaN) সলিড-স্টেট অ্যামপ্লিফায়ারের সাহায্যে পরিচালিত হবে।
প্রযুক্তির বিশেষত্ব অনুযায়ী, এই সিস্টেমটি পালস মোডে কমপক্ষে ৩ কেভি/মি (কিলোভোল্ট প্রতি মিটার) পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র শক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম। এর ফলে একটি শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের আঘাতে মাঝআকাশেই শত্রুপক্ষের উন্নত ড্রোন, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মিসাইল প্রযুক্তির প্রাথমিক কার্যক্ষমতা চিরতরে ব্যাহত বা ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হবে। এর আগে ডিআরডিও-র তৈরি পূর্ববর্তী এইচপিএম (HPM) প্রোটোটাইপগুলি প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে ড্রোনের ঝাঁক বা সোয়ার্ম আক্রমণ প্রতিহত করতে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছিল। এবার এই প্রযুক্তির পরিসর ও ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার কাজ চলছে।
আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য ও বিদেশ নির্ভরতা হ্রাস
গোলাবারুদ বা গতানুগতিক অস্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই শত্রুর সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করার এই অ-গতিশক্তি-ভিত্তিক (Non-kinetic) অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ওপর ভারতের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ মিশনকে আরও সুদৃঢ় করতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।