“ককটেল-মকটেলের যুগে বেঁচে থাকা দায়!” আয়ুর্বেদ ও জীবনধারা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য যোগী মন্ত্রীর

টিভি৯ ভারতবর্ষের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেহত সংবাদ ২০২৬’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং আয়ুষ মন্ত্রকের কার্যকারিতা নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন উত্তর প্রদেশ সরকারের আয়ুষ ও খাদ্য সুরক্ষা দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ডঃ দয়া শঙ্কর মিশ্র। আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে তিনি আয়ুষ বিভাগের একীভূতকরণের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, সুযোগ এবং আধুনিক জীবনযাত্রার নানা দিক নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন।

বিক্ষিপ্ত রশ্মিকে এক জায়গায় এনেছেন প্রধানমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে বলেন, “আয়ুষ মন্ত্রণালয় গঠন করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে চাই। যোগ, আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি, ইউনানি, ন্যাচারোপ্যাথি ইত্যাদি সমস্ত শাখা-প্রশাখাগুলো আগে বিক্ষিপ্ত ছিল—এগুলো যেন চারদিকে ছড়িয়ে থাকা সূর্যের রশ্মির মতো… তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেগুলোকে একত্রিত করেছেন।”

কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগের ১২ বছর পূর্তির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকার গঠনের পরই এই মন্ত্রক প্রতিষ্ঠিত হলেও উত্তর প্রদেশে তা বাস্তবায়িত হতে কিছুটা সময় লেগেছিল। ২০১৭ সালের আগে রাজ্যে সমাজবাদী পার্টির আমলে এই মন্ত্রক গঠিত হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়ুষ মন্ত্রক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গত আট বছর ধরে এই যাত্রা সফলভাবে এগিয়ে চলেছে।

ককটেল-মকটেলের যুগ বনাম আয়ুর্বেদের অনুশাসন

আধুনিক যুগের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনশৈলীকে কটাক্ষ করে মন্ত্রী বলেন যে, বর্তমান সময়টি হলো ককটেল ও মকটেলের যুগ। অথচ আয়ুর্বেদ হাজার হাজার বছর ধরে ভারতকে সুস্থ ও সবল রেখে এসেছে এবং বেদেও এর বিশদ বর্ণনা রয়েছে। তাঁর মতে, আয়ুর্বেদ নিছক কোনো চিকিৎসার পদ্ধতি নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনধারা। এর মধ্যে রয়েছে মানুষের সঠিক খাদ্যাভ্যাস, আচার-আচরণ, দৈনন্দিন রুটিন এবং ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করার নিয়ম।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আয়ুর্বেদে বিভিন্ন খাদ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যেমন কোন খাবারের সঙ্গে কোন খাবার খাওয়া উচিত আর কোনটি উচিত নয়। বর্তমান যুগের ককটেল-মকটেলের সংস্কৃতির সঙ্গে এর তুলনা করে তিনি বলেন, যারা আয়ুর্বেদের নিয়মকে আঁকড়ে ধরে সমালোচনা করেন, তাঁরা মূলত আধুনিকতার ভিড়ে সবকিছু গুলিয়ে ফেলেন। দয়া শঙ্কর মিশ্রের মতে, এই চিকিৎসা পদ্ধতি মূলত রোগের চিকিৎসার চেয়ে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ওপরই সবথেকে বেশি জোর দেয়। মানুষের দৈনন্দিন রুটিন এবং খাদ্যাভ্যাস সঠিক থাকলেই সে চিরকাল সুস্থ থাকতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *