‘দুর্গাপুজোয় বাঙালি কী খাবে…’ বাগেশ্বর বাবার আমিষ-মন্তব্যে যা বললেন শমীক

দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাওয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। পুজোয় যাঁরা আমিষ খান, তাঁদের ‘পাষণ্ড’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। তবে বাগেশ্বর বাবার এই নিদানকে এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে শমীক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বাঙালি দুর্গাপুজোর দিনে কী খাবে বা না খাবে, তা কোনো সাধু-সন্ত বা ভিন রাজ্যের লোক ঠিক করে দিতে পারেন না।
সম্প্রতি বাংলায় এসে বাগেশ্বর বাবা মন্তব্য করেছিলেন, পুজোর প্যান্ডেলের পেছনে আমিষ বা নোংরা খাবার খাওয়া উচিত নয় এবং হিন্দুরা জাগলে পুজোর দিনগুলিতে আর আমিষ খাবেন না। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। দলীয় স্তরে জলঘোলা এড়াতে এ দিন আসরে নামেন বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সাফ জানান, কেউ নিরামিষ খাওয়ার উপদেশ দিলে তাতে অন্যায় কিছু নেই, চিকিৎসকরাও অনেক সময় তা বলেন; কিন্তু জোর করে কাউকে খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়া বরদাস্ত করা হবে না।
শমীক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বাগেশ্বর বাবা অন্য দুনিয়ার মানুষ। দেশে তিনি জনপ্রিয়, আমি তাঁকে নমস্কার জানিয়েছি। কিন্তু তিনি বলতে পারেন না পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পুজোর সময় কী খাবেন আর কী খাবেন না।’ খোঁচা দিয়ে শমীক আরও বলেন, ‘বাঙালি অষ্টমীর দিন লুচি খাবে, নবমীর দিন কচি পাঁঠার মাংস খাবে— এটাই আমাদের রীতি।’ একইসঙ্গে বাগেশ্বর বাবার ব্যবহার করা ‘পাষণ্ড’ শব্দটিকেও তিনি সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন। শমীকের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
বিঃদ্রঃ খবরে ব্যবহৃত ছবিটি AI দ্বারা নির্মিত