ছেলের হাত ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইতিহাস! থাইল্যান্ডের বিশ্বমঞ্চে ভারতের ত্রিরঙ্গা ওড়াতে চলেছেন নদিয়ার মা-ছেলে

ছোট হাতের হাত ধরে জীবনের বড় কোনো স্বপ্ন পূরণের কাহিনী তো অনেকেই শুনেছেন, কিন্তু এবার খাস বাংলার এক মায়ের হাত ধরে নয়, বরং উল্টে ছেলের হাত ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখলেন এক মা। যোগাসনের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর অনুশীলনের জেরে এবার বিদেশের মাটিতে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার বিরল গৌরব অর্জন করলেন নদিয়ার শান্তিপুর থানার গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা পপি বিশ্বাস ও তাঁর ছোটো ছেলে স্বর্ণক বিশ্বাস। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক এই মহারণে অংশ নেওয়ার জন্য থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মা ও ছেলে।
ছেলের হাত ধরেই যোগাসনে হাতেখড়ি মায়ের
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই ছেলে স্বর্ণককে নিয়মিত যোগাসন শেখানোর জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যেতেন মা পপি বিশ্বাস। কিন্তু ছেলের বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে যে যোগাসনের প্রতি তীব্র আগ্রহ, একনিষ্ঠ একাগ্রতা এবং না-হারার জেদ দেখা গিয়েছিল, তা ধীরে ধীরে মুগ্ধ করে পপিকে। ছেলের সেই অনুশীলন দেখতে দেখতে মায়ের নিজের মধ্যেও যোগাসন শেখার প্রবল ইচ্ছা জেগে ওঠে। যদিও এর আগে থেকেই শারীরিক সুস্থতার জন্য ফিটনেস ও শরীরচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পপি, তবে ছোট ছেলের এই নিখাদ অনুপ্রেরণাতেই তিনি পরবর্তীতে পুরোদমে যোগাসনের নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় মা ও ছেলের একসঙ্গে অবিরাম পথচলা। প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রম, ঘাম ঝরানো অনুশীলন এবং যোগাসনের প্রতি শতভাগ নিষ্ঠার ফলও হাতেনাতে মিলেছে। জেলা থেকে শুরু করে একাধিক রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একের পর এক পুরস্কার জিতে নিয়েছে এই অদম্য মা-ছেলের জুটি।
ছোট্ট স্বর্ণকের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন
শান্তিপুরের একটি স্থানীয় স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র স্বর্ণক বিশ্বাস। এত অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক স্তরের মতো এত বড় মঞ্চে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার দুর্লভ সুযোগ পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের জোয়ারে ভাসছে পুরো পরিবার। অন্যদিকে, শুধু মা হিসেবে নয়, বরং ছেলের সহযোদ্ধা হিসেবে একই প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে লড়াই করতে নামতে পেরে চরম উচ্ছ্বসিত মা পপি বিশ্বাসও। স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে নদিয়ার এই দুই কৃতি সন্তানের থাইল্যান্ডের এশিয়া প্যাসিফিক যোগাসন স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ অংশ নেওয়ার খবরে গোটা এলাকায় এখন খুশির হাওয়া। বিদেশের মাটিতে তাঁরা দেশের নাম কতটা উজ্জ্বল করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।