পুজোর অনুদান কি তবে বন্ধ হচ্ছে? বড় বাজেটের পুজো নিয়ে নতুন সরকারের মেগা বৈঠকে কী বড় ঘোষণা হতে চলেছে?

তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় রাজ্যের পুজো কমিটিগুলি দুর্গাপুজোয় নিয়মিত মোটা অঙ্কের অনুদান পেত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রতিবারই পুজোগুলিকে চড়া অনুদান দিত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সেই অনুদান আদৌ অব্যাহত রাখবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ও পুজো উদ্যোক্তাদের অন্দরে জল্পনা এখন তুঙ্গে। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটাতে আজ, সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় কলকাতার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজকের এই বৈঠকেই অনুদান সংক্রান্ত জট কাটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কত টাকা দিত পূর্বতন সরকার?
গত বছর রাজ্যের প্রায় ৪৫ হাজার দুর্গাপুজো কমিটিকে প্রতি কমিটিপিছু ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। এর জেরে সরকারি কোষাগার থেকে মোট ৪৯৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বিদ্যুৎ মাশুলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় পেত। কিন্তু নতুন সরকার আসার পর এখনও পর্যন্ত পুজোর অনুদান বা আর্থিক সহায়তা নিয়ে সরকারিভাবে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা করা হয়নি।
কী জানা যাচ্ছে নতুন সরকারের নীতি নিয়ে?
পূর্বতন সরকারের নীতি অস্পষ্ট থাকায় এবার পুজোগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন উদ্যোক্তারা। তবে আগেই এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকারও পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেবে। তবে সেই অনুদান সমস্ত পুজোর জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র পিছিয়ে পড়া ও ছোট বাজেটের পুজো কমিটিগুলির জন্যই বরাদ্দ করা হবে। বড় বাজেটের জাঁকজমকপূর্ণ পুজোকে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে না বলেই সাফ জানিয়েছিলেন তিনি।
‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সভাপতি সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সরকার ঠিক কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং পুজো কমিটিগুলির কাছ থেকে প্রশাসন কী ধরনের সহযোগিতা চাইছে, মূলত সেই বিষয়েই আলোচনা হবে আজকের বৈঠকে। এর আগে সপ্তাহ তিনেক আগে ফোরামের প্রতিনিধিরা নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তখনই সেপ্টেম্বরে এই বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। আজ সোমবারের এই মেগা বৈঠকের পরই পরিষ্কার হয়ে যাবে নতুন সরকারের নীতি এবং পুজোর অনুদান নিয়ে চূড়ান্ত চিত্রটি কেমন হতে চলেছে।